


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় আচমকা দ্রুতগতিতে মোড় ঘোরাচ্ছে বাস। ট্রাফিক সিগন্যাল মানার কোনও বালাই নেই। শহরের প্রাণকেন্দ্র হাওড়া ময়দান এলাকায় বাসের ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে ইতিপূর্বে। দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েক মাস আগে শরৎসদনের উলটোদিকে লোহার রেলিং বসিয়েছিল হাওড়া সিটি পুলিশ। আসল ফুটপাত দখল হয়েছে আগেই। তাই রাস্তার উপর রেলিং দিয়ে পায়ে হাঁটার রাস্তা করে দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের নজরের সামনে এই অস্থায়ী ফুটপাতও ধীরে ধীরে হকারদের দখলে চলে গিয়েছে। রেলিংয়ের এপারে যথেচ্ছভাবে চলছে বেআইনি পার্কিং, নানা ধরনের ফাস্টফুডের স্টল। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন লাগামহীন ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
কলকাতা, হাওড়া রুটের বহু সরকারি-বেসরকারি বাস, একাধিক রুটের অটো, টোটো, ট্যাক্সি, অ্যাপ ক্যাবের ভিড় দিনভর। মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ার পর গত দেড় বছরে নিত্যযাত্রীদের ভিড়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। সব মিলিয়ে বর্তমানে হাওড়া ময়দান এলাকায় পথচারীদের হাঁটাচলার জায়গা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে বিকেলের পর রাস্তায় দু’কদম হাঁটতেই হাঁসফাঁস অবস্থা হয়। এই তীব্র যানজটের মধ্যেই ফাঁসিতলা মোড়, মহাত্মা গান্ধী রোড থেকে জি টি রোডের দিকে দ্রুতগতিতে ঘোরানো হয় বাসগুলি। ফলে প্রতিদিনই ছোটোখাটো দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। গত জুন মাসে এখানে শিয়ালদহ-হাওড়া ময়দান ৭১ নম্বর রুটের একটি বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ার। এরপর যানজট সামলাতে শরৎসদনের উলটোদিকে জি টি রোডের ধার বরাবর লোহার রেলিং বসায় হাওড়া সিটি পুলিশ। পুলিশের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়, রেলিংয়ের ওপার দিয়ে শুধু হাঁটাচলাই করা যাবে। রেলিংয়ের এপারে পায়ে হাঁটা কিংবা পার্কিং পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে বাস্তব ছবিটা একেবারেই উলটো। রেলিংয়ের ওপারের অংশে অস্থায়ী স্টল বসিয়ে দেদার জামা-কাপড় বিক্রিবাটা চলছে। আর এপারে বেআইনিভাবে পার্কিং করা থাকে বাইক, টোটো। পাশাপাশি পরপর দাঁড়িয়ে থাকে ফুচকা, ঝালমুড়ি সহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড, ফল, সবজির ভ্যান। সন্ধ্যার পর হকারদের ভিড়ে লোহার ব্যারিকেড চোখেও পড়ে না। স্থানীয় দোকানিদের কথায়, মাঝেমধ্যে পুলিশ অভিযান চালায়। তখন খাবারের দোকানগুলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দু’-একটি টোটো বাজেয়াপ্ত করা হয়। তারপর আবার যে কে সেই অবস্থা! কেন রেলিং দিয়ে ফুটপাত নির্দিষ্ট করার পরেও বেআইনি পার্কিং, হকারদের দৌরাত্ম্য রোখা যাচ্ছে না? প্রশ্ন করলেও তার সদুত্তর দিতে পারেননি ট্রাফিকের আধিকারিকরা। বঙ্গবাসী মোড় থেকে ফাঁসিতলা পর্যন্ত মোট তিনটি ট্রাফিক সিগন্যাল রয়েছে। এদিন গিয়ে দেখা গেল, ফাঁসিতলা মোড়ের সিগন্যাল বাদে বাকি দু’টি কাজই করছে না দীর্ঘদিন। ফলে সেখানে যানজট সামলাতে ট্রাফিক কনস্টেবল কিংবা সিভিক ভলান্টিয়ারদেরও রীতিমতো নাকানি-চোবানি খেতে হচ্ছে। প্রবীণ বাসিন্দা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘হাঁটা তো দূরের কথা, এখন আর শরৎসদনের সামনেও বসা যায় না। শহরের প্রাণকেন্দ্রে যানজট সামলাতে প্রশাসন সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিক।’ হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘হাওড়া ময়দান এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা চলছে। দ্রুত সেগুলি কার্যকর করা হবে।’ কিন্তু কী সেই পরিকল্পনা, তা খোলসা করেননি তিনি। নিজস্ব চিত্র