


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ছ’জন বন্ধুর হাত ধরে বট ও অশ্বত্থ গাছের নীচে বজরংবলীর পুজো শুরু হয়েছিল। মেদিনীপুর শহরের সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সেই এলাকাতেই সুবিশাল মন্দির তৈরি হল। এতে খুশি এলাকার বাসিন্দারা। শনিবার জন্মাষ্টমীতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন ও মেদিনীপুর বাসস্ট্যান্ড ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজনে বট ও অশ্বত্থ গাছের নীচেই বজরংবলী মন্দিরের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান সহ বিশিষ্টরা। মন্দির উদ্বোধনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। মন্দির দর্শনে বহু মানুষ ভিড় জমান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই মন্দিরে বহু বাসচালক ও কন্ডাক্টর নিয়মিত পুজো দেন। শহরের নানা প্রান্ত থেকে অনেকে আসেন। মন্দির তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা মানিকচন্দ্র রানা। তিনি ও তাঁর দুই পুত্রের আর্থিক সাহায্যে মন্দিরটি নির্মাণ হয়েছে। এদিন মানিকবাবু বলেন, সকলের সহযোগিতা ছাড়া মন্দির তৈরি করা সম্ভব ছিল না। এই মন্দিরে বহু মানুষের সমাগম হয়। মানুষের ইচ্ছেতেই মন্দির তৈরি হল। পুরসভা সবরকম সহযোগিতা করেছে। আগামী দিনে সমাজ কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, এই মন্দিরে বহু মানুষ পুজো দিতে আসেন। মন্দির তৈরির জন্য আবেদন করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১৭সালে বট ও অশ্বত্থ গাছের নীচে বজরংবলীর পুজো শুরু করেন ছ’জন বন্ধু। প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন পার্থসারথি ঘনা এবং মানিকবাবু। আগে ওই এলাকায় সেভাবে বজরংবলীর পুজো হতো না। গাছতলাতেই ধীরে ধীরে ছোট সেই মন্দিরের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। বাসযাত্রী থেকে চালক, ব্যবসায়ী সকলেই ছোট মন্দিরে পুজো করা শুরু করেন। সেই সময় থেকেই বড় মন্দির তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। আবেদনের পর অনুমতি দেয় পুরসভা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর পাশাপাশি সমাজ কল্যাণমূলক কাজও করেন মন্দির তৈরির উদ্যোক্তারা। রক্তদান সহ নানা জনমুখী কর্মসূচি হয়। করোনা পরিস্থিতির সময়ও তাঁরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মন্দির কমিটির সদস্য সঞ্জীব বসাক ও সুজিত নাগ বলেন, ভক্তদের কথা ভেবেই মন্দির তৈরি হয়েছে।