


নয়াদিল্লি: নজরে ভোটমুখী বিহার। সাংসদদের জন্য বিলাসবহুল আবাসনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে উঠে এল ওই রাজ্যের প্রসঙ্গ। সংসদ ভবন সংলগ্ন এই আবাসনের আবাসনে চারটি টাওয়ার- কৃষ্ণা, গোদাবরী, হুগলি ও কোশি। সবমিলিয়ে ফ্ল্যাটের সংখ্যা ১৮৪টি। প্রতিটির কার্পেট এরিয়া ৫ হাজার স্কোয়ার ফুট। অত্যাধুনিক সমস্ত সুযোগ সুবিধা রয়েছে ফ্ল্যাটগুলিতে। সোমবার এই আবাসনের উদ্বোধনে রাজনীতি টেনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী। আবাসনের টাওয়ারের নামকরণের প্রসঙ্গ তুলে বিহারের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। সামনেই ওই রাজ্যের ভোট। তার আগে মোদির ওই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
মোদি বিরোধীদের কটাক্ষ করেই এই বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবাসনের একটি টাওয়ারের নাম কোশি। এটা শুনেই বিরোধীরা বলবেন, বিহারের ভোটের কথা ভেবেই এই নামকরণ করা হয়েছে। সংকীর্ণ মনের মানুষরা প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে পারবেন না। চারটি নদীর নামে টাওয়ারগুলির নামকরণ করা হয়েছে। মোদি আরও বলেন, এই নদীগুলিকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবনধারণ করেন। উল্লেখ্য, কোশি বিহারের একটি নদী।
একইসঙ্গে কংগ্রেসকেও একহাত নিয়েছেন মোদি। তিনি বলেন, সাংসদদের আবাসন নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিনের। নতুন সাংসদদের ঘর পেতে হিমশিম খেতে হয়। ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। কিন্তু সাংসদদের জন্য কোনও আবাসন তৈরি হয়নি। এদিন নিজের সরকারের ঢাক পেটাতে কোনও কসুর করেননি প্রধানমন্ত্রী। আত্মপ্রচারের সুরে তিনি জানান, তাঁর সরকারের আমলে নতুন সরকারি সচিবালয়,সংসদ ভবন, সাংসদদের জন্য নতুন বাড়ি, চার কোটি গরিবের জন্য আবাস তৈরি হয়েছে। এছাড়া, কয়েকশো মেডিক্যাল কলেজ ও বাড়িতে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জলেরও ব্যবস্থা করেছে তার সরকার। মোদির দাবি, সাংসদদের পুরনো বাড়িগুলির হাল খুবই খারাপ। সেখানে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় জনপ্রতিনিধিদের। তবে নতুন আবাসনে কোনও সমস্যা হবে না। ছবি: পিটিআই