


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: পিএফের আওতায় এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম। আর সেই ইপিএস নিয়েও মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠল মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। সেটাও খাস সংসদে দাঁড়িয়ে। এই খাতে কতজন ৯ হাজার টাকার নীচে পেনশন পান? এই ছিল বিরোধী দলের এক এমপির প্রশ্ন। তাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য জানিয়েছেন, সংখ্যাটা ৪৭ লক্ষ ৪ হাজার ২৭০। বিতর্কের সূচনা এই সংখ্যাতেই। কারণ, পিএফ দপ্তরের হিসাবের সঙ্গে মন্ত্রীর দাবি কিছুতেই মিলছে না। চোখ কপালে উঠেছে পেনশনভোগীদের। তাঁরা বলছেন, ‘এ তো ডাহা মিথ্যা!’ সরকারি পরিসংখ্যানই বলছে, দেশে ইপিএফওর অধীনে পেনশন পেয়ে থাকেন ৮০ লক্ষের বেশি নাগরিক। যদি ৪৭ লক্ষ মানুষ ৯ হাজার টাকার কম পান, তাহলে প্রায় ৩৩ লক্ষের অ্যাকাউন্টে তার বেশি টাকা ঢোকে? এটাই অসম্ভব। কেন?
তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের জন্য শেষ বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেছে শ্রমমন্ত্রক। সেখানে তারা জানিয়েছে, ওই অর্থবর্ষ শেষে পেনশনভোগীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ৭৮ লক্ষ। তার মধ্যে হাজার টাকার নীচে পেনশন পান ৩৬ লক্ষ ৬০ হাজার। এক থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে পেনশন জোটে প্রায় ১২ লক্ষের। দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পান প্রায় ৯ লক্ষ। এইভাবে শেষ ধাপে ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি পেনশন পান প্রায় ৩০ হাজার। পেনশনভোগীরা বলছেন, ন’হাজার টাকা তো দূরঅস্ত, তাঁদের প্রাপ্তির অঙ্ক মাসে ছ’হাজারের সীমাই ছোঁয়নি! অর্থাৎ শ্রমমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯ হাজার টাকার নীচে পেনশন পাওয়ার কথা ওই ৭৮ লক্ষের! সেক্ষেত্রে কীসের ভিত্তিতে আজগুবি, অদ্ভুতুড়ে হিসাব পেশ করলেন মন্ত্রী? তাঁর অঙ্ক অনুযায়ী, ৩৩ লক্ষ মানুষ ৯ হাজার টাকার উপর, অর্থাৎ ‘বর্ধিত পেনশন’ পেয়ে থাকেন। আর সেটা অসম্ভব।
পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে দশ বছর ধরে দেশজুড়ে আন্দোলন করছে ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটি। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ‘কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সংসদে লিখিতভাবে যে জবাব দিয়েছেন, তাতে আমরাও তাজ্জব। এই স্কিমের আদিপর্বে কর্মচারীর সর্বাধিক ৫ হাজার টাকা বেতন থেকে ৮.৩৩ শতাংশ হারে পেনশন ফান্ডে টাকা জমা পড়ত। পরে বেতনের সীমা বেড়ে সাড়ে ৬ হাজার টাকা করা হয়। ২০১৪ সালে সর্বাধিক ১৫ হাজারি বেতনের উপর পেনশন ফান্ডে ৮.৩৩ শতাংশ জমা পড়ে। আমাদের হিসাবে কোনও কর্মী বর্ধিত হারে পেনশনের জন্য আবেদন না করলে, অবসরের পর খুব বেশি হলে ৫ হাজার ৬০০ টাকা পেতে পারেন।’ হিসাব বলছে, বর্ধিত পেনশনের জন্য আবেদন করেছিলেন ১৮ লক্ষ। তার মধ্যে ১২ লক্ষ আরজি নানাবিধ ‘টেকনিকাল’ কারণ দেখিয়ে কেন্দ্র প্রথমেই খারিজ করে দেয়। বাকি থাকে ৬ লক্ষ। তাঁদের মধ্যেও বিপুল দর কষাকষির পর কেন্দ্র খুব বেশি হলে ২ লক্ষ পেনশনভোগীকে বর্ধিত হারে পেনশন দেয়। সেটাও ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ থেকে। এই লাখ দুয়েক প্রবীণের পেনশন ৯ হাজার টাকার বেশি হতেই পারে। কিন্তু সংখ্যাটা কখনোই ৩৩ লক্ষ নয়। প্রবীণদের সংগঠনটি বলছে, কেন্দ্র যদি ঘুরপথে প্রমাণের চেষ্টা করে যে, ৩০ লক্ষের বেশি দেশবাসী ৯ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাহলে তা মিথ্যাচার ছাড়া আর কী? তপন দত্তের সাফ দাবি, ‘মন্ত্রী ওই সংখ্যাতত্ত্ব কোথায় পেলেন, তা আমাদেরও প্রশ্ন।’