


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দ্বিতীয় দফার ভোটের আর মাত্র তিনদিন পর। ঠিক সেই সময়েই বাগদায় বিজেপির অন্দরেই ফেটে পড়ল বিস্ফোরণ। দলেরই বিক্ষুব্ধ নেতা তথা নির্দল প্রার্থী দুলাল বর সরাসরি নিশানায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং তাঁর স্ত্রী তথা বাগদার বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর। অভিযোগের তীব্রতা এমন যে, তা শুধু রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়িতে আটকে নেই—বরং সরাসরি ‘কালো টাকা’ তোলার অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি পর্যন্ত গড়িয়েছে। দুলাল বরের অভিযোগের কেন্দ্রে ‘মাতৃসেনা’। মতুয়া সম্প্রদায়ের মহিলাদের একটি সংগঠন, যা বহু বছর ধরে পরিচালনা করে আসছেন সোমা ঠাকুর। দুলালের দাবি, এই সংগঠনের নামেই সরল-সহজ মতুয়া ভক্তদের কাছ থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তোলা হয়েছে। তাঁর কথায়, এই টাকা যতই মাটির তলায় লুকিয়ে রাখা হোক না কেন, জেসিবি নামিয়ে হলেও আমি তা উদ্ধার করব। শুধু বক্তব্য নয়, মঞ্চ থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি—আমি জিতি বা না জিতি টাকার হিসাব মতুয়াদের ফেরত দিতেই হবে। ফলে, এই মন্তব্যের জেরে বাগদার রাজনৈতিক আবহে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোটের মুখে এমন প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব বিজেপির সংগঠনিক ঐক্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে যখন উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই ঘিরে ক্ষোভ আগে থেকেই ছিল। গাইঘাটা ও বারাসতে বিক্ষুব্ধরা শেষমেশ পিছু হটলেও, বাগদায় সেই ক্ষোভ দুলাল বরকে কেন্দ্র করেই বহাল। দু’বারের বিধায়ক হিসেবে তাঁর নিজস্ব প্রভাবও কম নয়। ফলে এই লড়াই এখন সরাসরি দল বনাম ‘দলের ভিতরের বিরোধী’ রূপ নিচ্ছে। কিছুদিন আগেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার রাজনীতি’কে সামনে রেখে প্রচারে নেমেছিলেন শান্তনু ঠাকুর। স্ত্রী সোমা ঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে সেই প্রতীকী বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, ভোটের ঠিক আগে সেই বুলডোজারের প্রতীকই যেন ঘুরে দাঁড়াল তাঁদের দিকেই! দুলাল বরের কটাক্ষ, যাঁরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন, আগে নিজের ঘরটা পরিষ্কার করুন। এই সংঘাতের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দীর্ঘদিন ধরেই শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দুলাল বরের দূরত্ব রয়েছে। ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রায় ছিন্ন—এ কথাও স্থানীয় রাজনীতিতে বহুল আলোচিত। ফলে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এখন ব্যক্তিগত আক্রমণের সুরও পাচ্ছে। মাতৃসেনা প্রসঙ্গে দুলালের অভিযোগ আরও নির্দিষ্ট। তাঁর দাবি, ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন সোমা ঠাকুর ছাড়াও শান্তনু ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা। আর সেই সূত্রেই আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তিনি। সভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আমার কাছে সব তথ্য আছে। সিবিআই তদন্ত ছাড়া সত্য সামনে আসবে না।
এদিকে, এই অভিযোগকে একেবারেই আমল দিতে নারাজ সোমা ঠাকুর। উলটে তিনিই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তদন্ত করতে হলে এখনই শুরু করুন। দুলাল বর বাগদার মানুষকে ভাঁওতা দিয়েছেন। এও তারই আর এক অধ্যায়। ভোটের আগে বিজেপির অন্দরের এই ফাটল শেষপর্যন্ত কার জন্য সুখকর হরে, আপাতত সেই উত্তরই খুঁজে বেড়াচ্ছে বাগদা।