


দাভোস ও নয়াদিল্লি: গাজা তথা পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার অছিলায় রাষ্ট্রসংঘের ‘সমান্তরাল’ প্রতিষ্ঠান গড়ার চেষ্টা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নামক উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে সংশয়ের পরিবেশ। এর মধ্যেই দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের (ডব্লুইএফ) মঞ্চে ট্রাম্প তাঁর এই ‘বোর্ড অব পিস’-এর সনদে স্বাক্ষর করেন। এখানে তিন বছরের সদস্যপদের পাশাপাশি ১০০ কোটি ডলার অনুদানের মাধ্যমে স্থায়ী সদস্যপদের ব্যবস্থা রয়েছে। সনদে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্পের দাবি, সবটা খুবই সুন্দরভাবে এগোচ্ছে। সবাই এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে আগ্রহী। রাষ্ট্রসংঘ সহ অন্যান্যদের সঙ্গেও তিনি কাজ করতে চান।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ট্রাম্পের এই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি আমেরিকারই বহু বন্ধু রাষ্ট্র। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি। সন্দিহান ফ্রান্স ও ব্রিটেনও। বৃহস্পতিবারই ব্রিটেন স্পষ্টভাবে অংশগ্রহণ না করার কথা জানিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের সনদ স্বাক্ষরের মঞ্চে অনুপস্থিত ছিল ভারতও। সরকারি সূত্রে খবর, গত রবিবার এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ভারত সেই প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো একঝাঁক মুসলিম দেশ অংশগ্রহণ করেছে। উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। শুধু তাই নয়, গাজার মানুষের ‘পাশে দাঁড়াতে’ ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের তরফেও।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আমেরিকা যেভাবে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে এনেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। পরে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের চড়া সুর ন্যাটো জোট তথা ইউরোপের সহযোগী দেশগুলির সঙ্গে আমেরিকার তিক্ততা বেড়েছে। সেই ট্রাম্পই ‘বোর্ড অব পিস’ নামে সমান্তরাল প্রতিষ্ঠান গড়ে পশ্চিম এশিয়া তথা গোটা বিশ্বের সংঘাতগুলিকে মীমাংসার বার্তা দিচ্ছেন। ফলে তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয়ে বন্ধু রাষ্ট্রগুলিই। বিশেষ করে পুতিন সহ একাধিক একনায়ক যেভাবে এই নয়া প্রতিষ্ঠান নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তাতে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। ইউরোপের বহু সহযোগী রাষ্ট্র এড়িয়ে গেলেও ট্রাম্পের এই উদ্যোগে পশ্চিম এশিয়া সহ একাঝাঁক দেশ ইতিমধ্যেই অংশগ্রহণ করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে, বাহরিন, মরক্কো, আর্জেন্তিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, উজবেকিস্তান, ও মঙ্গোলিয়ার মতো দেশগুলি। তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দর থেকেই জানানো হয়েছে, ৫০টির মতো দেশের কাছে প্রস্তাব গেলেও সাড়া মিলেছে ৩৫টির মতো রাষ্ট্রের তরফে। ছবি: পিটিআই