


নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন আচমকা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা থেকে শুরু করে চড়া হারে শুল্ক চাপানো কিংবা রাশিয়া থেকে তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞা। ‘বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে সবকিছুই মুখ বুজে মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনই ‘আনুগত্যে’র প্রসঙ্গ তুলে প্রায়শই সরব হয় কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি। এবার বিরোধীদের দাবিতেই কার্যত সিলমোহর দিলেন খোদ বিজেপি নেতা রাম মাধব! আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর স্বীকারোক্তি, কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই ইরান ও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে নয়াদিল্লি। ৫০ শতাংশ শুল্কও মেনে নিয়েছে ভারত। আর এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বিজেপিকে খোঁচা দেয় কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হাত শিবিরের কটাক্ষ, মোদি ও তাঁর সরকারের আত্মসমর্পণের কাহিনী বলেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতা রাম মাধব। অস্বস্তির মুখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন গেরুয়া শিবিরের ওই নেতা।
ওয়াশিংটন ডিসির হাডসন ইনস্টিটিউটে নিউ ইন্ডিয়া কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছিল। বিষয় ছিল— ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের অগ্রগতি। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি নেতা রাম মাধব বলেন, ‘ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে ভারত। বিরোধীদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছি আমরা। কোনো কথা না বলেই ট্রাম্পের চাপানো ৫০ শতাংশ শুল্কও মেনে নিয়েছি। আমেরিকার জন্য কী না করেছে ভারত।’ তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসার পরই শোরগোল পড়ে যায়। বিরোধীদের একাংশের কথায়, অবশেষে সত্যিটা বেরিয়ে আসছে। মোদির রিমোট কন্ট্রোল যে ট্রাম্পের হাতে, তা নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন তাঁর দলের নেতা। এই পরিস্থিতিতে ইউ টার্ন নিয়েছেন রাম মাধব। চাপে পড়ে তাঁর সাফাই, ‘আমি ভুল বলেছিলাম। ভারত কখনও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে রাজি হয়নি। এমনকী ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের তীব্র বিরোধিতা করেছিল নয়াদিল্লি। অন্য প্যানেলিস্টের বক্তব্যের জবাবে পাল্টা যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম আমি। কিন্তু তা তথ্যগতভাবে ভুল ছিল। ক্ষমাপ্রার্থী।’