


গ্লাসগো: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতকে পথ দেখাচ্ছে ভারোত্তোলকরাই। গ্লাসগোয় চলতি আসরে এখনও পর্যন্ত ৫টি এসেছে ভারোত্তোলকদের হাত ধরে। রবিবার সোনা জিতেছিলেন মীরাবাঈ চানু। ঋষিকান্ত সিং ও মুথুপান্ডি রাজা পেয়েছিলেন রুপো। লিফটিং প্ল্যাটফর্মে তেরঙ্গা ব্রিগেডের সাফল্যের ধারা বজায় রেখে এদিন আরও দু’টি পদক আনলেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব ও বিন্দ্যারানী দেবী। মহিলাদের ভারোত্তোলনের ৫৩ কেজি বিভাগে রুপো জিতলেন জ্ঞানেশ্বরী। আর ৫৮ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন বিন্দ্যারানী।২৩ বছরের জ্ঞানেশ্বরী মোট ১৯৯ কেজি ওজন (স্ন্যাচে ৮৮, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১১) তুলে পদক নিশ্চিত করেন। এই ইভেন্টে ২০৬ কেজি তুলে সোনা জেতেন নাইজেরিয়ার ওনোমে ওমোলোলা ডিডি। অন্যদিকে, বিন্দ্যারানী ব্রোঞ্জ জয়ের পথে তোলেন মোট ১৯৯ কেজি ওজন। এই ইভেন্টে সোনা ও রুপোর দখল নেন নাইজেরিয়ার রাফিয়াতু লাওয়াল (২২৯ কেজি) ও কানাডার অ্যান-সোফি তাসেরিউ (২১৫ কেজি)। পাশাপাশি পুরুষদের হাই জাম্পে রুপো পেলেন সর্বেশ কুশারে। ২.২৫ মিটার লাফিয়েছিলেন তিনি।
ভারতীয় শিবির উচ্ছ্বাসে মাতল ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁও জেলার জ্ঞানেশ্বরীকে ঘিরে। শৈশব থেকেই খেলাধুলার প্রতি ছিল তাঁর অদম্য আকর্ষণ। আর তাতে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি পরিবার। আসলে তাঁর বাবা দীপক যাদব নিজেও একজন বডিবিল্ডার ছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে খেলা ছেড়ে তিনি হয়ে ওঠেন ইলেকট্রিশিয়ান। দীপকবাবুর অধরা স্বপ্ন আজ মেয়ের মাধ্যমেই পূর্ণ হল। পাওয়ারলিফটার হিসাবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন জ্ঞানেশ্বরী। তবে দ্রুত তা বদলে যায় ভারোত্তোলনের প্রতি ভালোবাসায়। ২০২২ সালে জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মেলে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য। ৪৯ কেজি বিভাগে মোট ১৫৬ কেজি ওজন তুলে রুপো পান জ্ঞানেশ্বরী। পরের বছর কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে জেতেন সোনা। আর পিছনে তাকাতে হয়নি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক পদক জিতে প্রতিভার প্রমাণ রাখেন তিনি। সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ছত্তিশগড় সরকার তাঁকে রাজ্য পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ করে। সোমবার গ্লাসগো গেমসে রুপো জেতার পর জ্ঞানেশ্বরীর প্রতিক্রিয়া, ‘দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পেরে আমি গর্বিত। মসৃণ ছিল না সাফল্যের পথ। তবে যাবতীয় পরিশ্রম আজ সার্থক। বাবার কথা মনে পড়ছে। তাঁর আত্মত্যাগ ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হত না।’
ভারোত্তোলকদের পাশাপাশি গেমসে এদিন আশা জাগালেন ভারতীয় বক্সাররা। অনায়াসে শেষ আটের টিকিট পাকা করেছেন অঙ্কুশ ও শচীন সিবাচ। পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ ৫-০ পয়েন্টে উড়িয়ে দিয়েছেন অ্যান্টিগার জালান জ্যানকে। আর ৬০ কেজি বিভাগে শচীন ৪-১ ব্যবধানে জিতেছেন ইংল্যান্ডের উইলিয়াম হিউয়িটের বিরুদ্ধে। অ্যাথলেটিকসেও পদকের আশা জাগল। পুরুষদের লং জাম্পে অনায়াসে ফাইনালে উঠলেন মুরলী শ্রীশঙ্কর ও লোকেশ সত্যনাথন। ৭.৭৭ মিটার লাফিয়ে সপ্তম স্থানে শেষ করেন লোকেশ। এছাড়া পুরুষদের ১১০ মিটার হার্ডলসের ফাইনালে পৌঁছেছেন তেজাস শিরসে। তবে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে চরম হতাশ করেন গুরবিন্দার সিং। ১০.৩৯ সেকেন্ডে দৌড়ে হিটেই বিদায় নেন দেশের দ্রুততম মানব। জিমন্যাস্টিকসে আশা জাগিয়েও পদক জিততে পারলে না প্রতিষ্ঠা সামন্ত। ভল্ট ফাইনালে সপ্তম স্থানে শেষ করেন হাওড়ার ২২ বছরের এই জিমন্যাস্ট। মহিলাদের বক্সিংয়ে ৫১ কেজি বিভাগে কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছালেন সাক্ষী চৌধুরী। তাঁর সামনেও পদকের হাতছানি।