


দুবাই: মধুর প্রতিশোধ ছাড়া আর কী! দু’বছর আগে ডাম্বুলায় এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছেই হেরেছিল ভারত। রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সেই ক্ষতে পড়ল মলম। ৭২ রানের বড়ো ব্যবধানে হেলায় লঙ্কাজয় হরমনপ্রীত কাউর ব্রিগেডের। আটবার মহিলাদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেদের রেকর্ড আরও উন্নত করল টিম ইন্ডিয়া। ১৮৪ রানের টার্গেট তাড়া করে চামারি আটাপাট্টুর দলের সংগ্রহ মোটে ১১১।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নেমেছিল ভারত। দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার হাফ-সেঞ্চুরিই গড়ে দেয় ভিত। ৩৯ বলে আক্রমণাত্মক ৬৮ করেন শেফালি। মারেন ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। অন্যদিকে, ৩৯ বলে স্মৃতির সংগ্রহ ৫৯। ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা রয়েছে তাঁর ইনিংসে। ‘পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে দুই ওপেনার তোলেন ৫৭। তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন শেফালি। তাঁর অর্ধশতরান আসে মাত্র ২৪ বলে। উল্লেখ্য, চলতি আসরে এটা ডানহাতি ওপেনারের তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি। উলটোদিকে, শুরুতে মন্থর দেখাচ্ছিল স্মৃতিকে। পরের দিকে তিনি হাত খোলেন। তাঁর পঞ্চাশ আসে ৩৫ বলে। প্রথম উইকেটে ওঠে ১২৯ রান।
যেভাবে শেফালি-স্মৃতি খেলছিলেন, তাতে দুশো রান নিশ্চিত দেখাচ্ছিল। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এদিনও। প্রমোশন পেয়ে তিন ও চারে নামা হরমনপ্রীত (১৪) ও রিচা ঘোষ (১৭) সুযোগের সদ্ব্যবহারে ব্যর্থ। দীপ্তি শর্মাও (৫) দ্রুত ফেরেন। ১৬০ থেকে ১৬৭, এই ৭ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় ভারত। গুনালান কমলিনীর (৫ বলে অপরাজিত ১৫) ঝোড়ো ইনিংস ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের স্বস্তিতে পৌঁছে দেয়।
এশিয়া কাপের ফাইনালে একবারই দেড়শোর বেশি রান তাড়ার নজির রয়েছে। সেটা গতবারের ফাইনালেই। তবে তার পুনরাবৃত্তি হয়নি। চামারি (৩৬), নীলাক্ষিকা সিলভা (২২), ভিশমি গুনরত্নে (২০) ছাড়া শ্রীলঙ্কার কেউ দশের গণ্ডি পেরোয়নি। শ্রী চরণি (৪-২০) ও দীপ্তির (৩-১৯) ঘূর্ণিজালে অসহায় দেখায় গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। দশম ওভারে দীপ্তির বলে চামারি ও গুনরত্নে ফিরতে বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। এই আসরে ১৪ উইকেট নিলেন দীপ্তি। ব্যাটে হাফ-সেঞ্চুরির পর বোলিংয়েও সফল শেফালি (১-২৩)। তবে ৫টা ক্যাচ না পড়লে আরও আগে দাঁড়ি পড়ত শ্রীলঙ্কার ইনিংসে।
ভারতীয় দল অবশ্য এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সলের প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভির থেকে ট্রফি নেয়নি। এশিয়া কাপ না নিয়েই ড্রেসিং-রুমে ফিরে যায় দল।