


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার যৌনকর্মী, আদিবাসী, আশ্রমের বাসিন্দা এবং ওই শ্রেণির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট ভোটাররা নথি জমা না দিলে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার সমস্ত জেলাশাসকের কাছে পাঠানো এক নির্দেশে জানিয়েছে ইসিআই। এদিকে শুনানিতে ভোটারদের থেকে প্রাপ্ত নথি যাচাইয়ের পর এবার শুরু হচ্ছে তা আপলোডের কাজ। এই কারণে এদিন রাজ্যের ইআরও এবং এইআরও’দের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন।
এর আগে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যৌনকর্মীরা। এই মর্মে কমিশনে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল। তার ফলে এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লি সোনাগাছিতে বিশেষ ক্যাম্পও করেছিল কমিশন। পাশাপাশি পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার মতো আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আদিবাসীদের একাংশের মধ্যে ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করা নিয়েই দেখা গিয়েছিল অনীহা। পরবর্তীকালে অবশ্য সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু নথি জমা না-পড়ার কারণে তাঁদের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই বিশেষ ব্যবস্থা নিল কমিশন। জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো নির্দেশে কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র না মিললে এবং তাঁরা কোনও নথি জমা না দিতে পারলেও যৌনকর্মী, আদিবাসী, আশ্রমের বাসিন্দা এবং ওই ধরনের ভোটারদের নাম রাখতে হবে। বিকল্প হিসেবে সংশ্লিষ্ট যৌনপল্লি, আদিবাসী মহল্লা এবং আশ্রমে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে করতে হবে গণশুনানি এবং তাদের নথির খামতি সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করতে হবে। স্থানীয় বুথ লেভেল এজেন্ট মারফত নিশ্চিত হতে হবে ভোটারের পরিচিতি সম্পর্কে। তারপর সমস্ত তথ্য পাঠাতে হবে এইআরও এবং ইআরও’র কাছে। সমাধান খুঁজতে হবে এসবেরই ভিত্তিতে। অন্যদিকে, কমিশন আগেই জানিয়েছিল, ‘আনম্যাপড’ ভোটারের শুনানি থেকে প্রাপ্ত নথি যাচাই করতে হবে জেলাশাসক বা ডিইও’দের। ইসিআই’তে সেই তথ্য আপলোডও করতে হবে। এবার শুরু হচ্ছে কাজটি। এনিয়ে সমস্ত এইআরও এবং ইআরও’র সঙ্গে বৈঠক করেন সিইও মনোজ আগরওয়াল।