


নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: একগুচ্ছ সমস্যায় একসময় বন্ধ হয়ে যায় উত্তর দিনাজপুরের একমাত্র সরকারি দুগ্ধ প্রকল্পের প্রতিষ্ঠান কুলিক মিল্কের কারখানা। সেই প্রকল্পকে এবার পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেবে জেলা প্রশাসন। সদ্য দায়িত্ব নিয়েই সোমবার একথা জানালেন উত্তর দিনাজপুরের নতুন জেলাশাসক অভিজিৎ সেভালে। তাঁর কথায়, কুলিক মিল্ক যতদিন চালু ছিল, ততদিন সেটি বহু মানুষকে কর্মসংস্থানের পথ দেখিয়েছে। কিন্তু শেষমেশ বন্ধ হয়ে যায় সেটি। আমি জেলা প্রশাসনের তরফে দুগ্ধ প্রকল্পটির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব। দুগ্ধ প্রকল্প সমবায়ের কর্মীদের ফের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। গুজরাতের আনন্দ শহরে ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড থেকে রায়গঞ্জের কুলিক দুগ্ধ সমবায়কে সহযোগিতার ব্যাপারে বলা হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক সহ প্রাণিসম্পদ বিকাশ বিভাগের আধিকারিকদের এ ব্যাপারে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিনিয়োগ করছে আমুল। হাওড়ার সাঁকরাইলে দই কারখানার কাজ এগচ্ছে। প্রস্তাব রয়েছে উত্তরবঙ্গে একটি আইসক্রিম কারখানা তৈরিরও। এই আবহে উত্তর দিনাজপুরের একমাত্র সরকারি দুগ্ধ প্রকল্পকে পুনরায় শুরু করার প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের। অনেকের মতে, কর্মসংস্থান তৈরিতে রাজ্য সরকারের সদিচ্ছারই প্রতিচ্ছবি কুলিক দুগ্ধ প্রকল্পকে পুনরায় শুরু করার এই উদ্যোগ।
১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন কর্ণজোড়া এলাকায় চালু হয় কুলিক সমবায় দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্র। সেই প্রকল্পে শুধু উত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন প্রান্তের নয়, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পাশের রাজ্য বিহার থেকেও প্রচুর পরিমাণ দুধ আনা হতো। সেই দুধ প্যাকেটবন্দি করা হতো বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে।
সেই দুধ ফের উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বিভিন্ন দোকান বাজারে পৌঁছে যেত। সেখান থেকে সাধারণ ক্রেতারা সুলভ মূল্যে সেই দুধ সংগ্রহ করতেন। তৎকালীন রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতাল ক্যাম্পাসেও পৃথক কাউন্টার করে কুলিক দুধ বিক্রি হতো। দুধের পাশাপাশি দুগ্ধজাত সামগ্রী হিসেবে ঘি, পনিরও সরকারিভাবে বাজারে বিপণন করার ব্যবস্থা ছিল। সবমিলিয়ে জনমানসে ব্যাপক চাহিদা ছিল ওই দুধের। কিন্তু একসময় দুধ সরবরাহকারী এজেন্সিরা নিয়মিত টাকা পরিশোধ না করায় উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেয়। দিন দিন বকেয়া টাকার পরিমাণ বিপুল অঙ্কে পৌঁছয়। টাকার অভাবে কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া থমকে যায়। শেষমেশ বাজারের চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে না পেরে ২০২০ সালে অতিমারি করোনার সময় কুলিক দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু নতুন জেলাশাসক কুলিক মিল্ক নিয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু করায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন অনেকে।