


শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: বিহার ছিল অ্যাসিড টেস্ট! তাতে ‘সাফল্য’ মিলেছে। অন্তত তেমনটাই মনে করছে নির্বাচন কমিশন। এবার তাই বিহার পরবর্তী পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই গোটা দেশে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের কাজ শেষ করতে চাইছে কমিশন। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বুথ স্তরে ভোটার তথ্য যাচাইয়ের জন্য বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলিকে বুথ লেভেল এজেন্ট নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠাতে আগেই নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। এবার বাধ্যতামূলকভাবে সব রাজ্যকে গত এক বছরের ভোটার তালিকায় সংযোজন-বিয়োজনের তথ্য তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। কোনও কোনও রাজ্যের ক্ষেত্রে আবার গত পাঁচ বছরের ভোটার তালিকায় সংযোজন-বিয়োজন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে বলেছে কমিশন। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিটি রাজ্যকে তাদের সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে শেষ এসআইআর অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। এছাড়াও বিএলও, বিএলও সুপারভাইজার, ইআরও, বুথ লেভেল এজেন্ট নিয়োগ এবং তাঁদের প্রশিক্ষণের কাজ শেষ হলেই রাজ্যগুলিকে তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট পাঠাতেও বলা হয়েছে। এরপর সিইও-দের নিয়ে দিল্লিতে একপ্রস্থ বৈঠক হতে পারে। তারপরই দেশজুড়ে এসআইআরের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। রাজ্যভিত্তিক পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বলেই জানা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ‘বিহার মডেল’ অনুসরণ করেই নির্দিষ্ট সময় বেঁধে রাজ্যগুলিতে এসআইআরের কাজ চলবে। আর পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আগেই তা শেষ করা হবে।
২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ এবং আরও চারটি রাজ্য—অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে ভোট হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই বিহার এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, কমিশন ভালোই বুঝতে পারছে, দিন যত গড়াবে এসআইআর নিয়ে সুর ততই চড়বে। তাই ‘বিতর্ক’ দীর্ঘায়িত না করে পাঁচ রাজ্যের ভোটের আগেই দেশজুড়ে এসআইআরের কাজ শেষ করতে চায় কমিশন। যদিও বিরোধীদের দাবি, বিজেপির পরোক্ষ চাপেই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন শুরুর আগে দেশে এসআইআর পর্ব গুটিয়ে ফেলতে চাইছে কমিশন। এদিনই যেমন বাংলায় এসআইআর ইস্যুতে প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি বিশেষ বৈঠক সেরেছেন সোমবার। তবে আপাতত এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ‘নিঃশর্ত’ ছাড়পত্র আদায় করাই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য। ১২ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিনই তা মিলবে বলে আশাবাদী কমিশন কর্তারা।