


চেন্নাই: বাকি দলগুলি যখন প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখলের জন্য লড়ছে, তখন চেন্নাই সুপার কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্স মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে লাস্ট বয়ের তকমা এড়ানোর লক্ষ্যে। গত ম্যাচে দিল্লিকে হারানোর সুবাদে চেন্নাই উঠে এসেছে নবম স্থানে। আর কেকেআর সবার শেষে। চার ম্যাচে তিনটিতে হেরেছে শাহরুখ খানের দল। সিএসকে’ও তাই। পার্থক্য একটাই, কেকেআরের ঝুলিতে এক পয়েন্ট যোগ হয়েছে বৃষ্টির বদান্যতায়।
ছাব্বিশের আইপিএলে প্লে-অফের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে নাইট রাইডার্স। চেন্নাইকে হারাতে না পারলে সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হবে। তবে অতীতে দেখা গিয়েছে, খাদের কিনারা থেকে নাইটরা দারুণ কামব্যাক করেছে। সেই পরিসংখ্যানই এখন সম্বল সমর্থকদের। এক-আধটা সমস্যা হলে কাটিয়ে ওঠা যায়। কিন্তু কেকেআর জড়িয়ে পড়েছে সমস্যার জটাজালে। শুরুতে মনে হচ্ছিল, পেস আক্রমণের দুর্বলতা ভোগাচ্ছে দলকে। তবে শেষ দু’টি ম্যাচে দেখা গেল ব্যাটিংও মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, ফিন অ্যালেনের অফ ফর্ম ওপেনিং জুটিকে জমাট বাঁধতে দিচ্ছে না। চাপ অনেক বেশি পড়ছে রাহানের উপর। তাই অ্যালেনের বিকল্প খোঁজা উচিত। একই সঙ্গে ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়েও হতাশা বাড়ছে। এতদিন তো বল করছিলেন না। স্পেশালিস্ট ব্যাটার হিসেবেও ছাপ ফেলতে পারেননি। গত ম্যাচে বল হাতে শুরুটা ভালো করলেও ডেথ ওভারে ডুবিয়েছিলেন। তার পরেও গ্রিনকে বয়ে বেড়ানোর কোনও অর্থ হয় না। শাহরুখ খান যদি মনে করেন, অজি অলরাউন্ডারকে মাঠে খাটিয়ে ২৫ কোটি টাকা তুলবেন, তা হলে অন্য কথা!
ধারাবাহিকতার নিরিখে, ক্যাপ্টেন রাহানে ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ছাড়া বাকিরা পাতে দেওয়ার মতো নয়। এমনকী রিঙ্কু সিংও ফর্মের ধারেকাছে নেই। রাসেলের বিকল্প এখনও হাতড়াচ্ছে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট। রভম্যান পাওয়েল গত ম্যাচে বড় রান করলেও তাঁর উপর ভরসা রাখা কঠিন। চিপকের পিচে মণীশ পাণ্ডে অতীতে ভালো পারফর্ম করেছেন। সেই নিরিখে তাঁকে ভাবা হতে পারে। রাচীন রবীন্দ্র কিংবা সেইফার্ট বিদেশিদের কোটায় ভালো বিকল্প।
হারের হ্যাটট্রিকের পর দুর্দান্ত জয় চেন্নাইয়ের ক্রিকেটারদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়েছে। সঞ্জু স্যামসন গত ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। তরুণ তুর্কি আয়ূষ মাত্রেও ছন্দে। সব মিলিয়ে দেরিতে হলেও জমাট দেখাচ্ছে সিএসকে’র ব্যাটিং। ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, শিবম দুবে, সরফরাজ খান, ব্রেভিসের মতো ব্যাটার থাকায় কাজটা সহজ হবে না কেকেআর বোলারদের।
ঘরের মাঠে বিপুল দর্শক সমর্থনও থাকবে সঞ্জুদের পাশে। গ্যালারির দিকে তাকালে মনে হবে সূর্যমুখী ফুল ফুটেছে। হলুদের সমারোহ। তার উপর চোট সারিয়ে ধোনি খেললে তো কথাই নেই। সিএসকে’র সমর্থকদের গর্জনের বিরুদ্ধে লড়তে হবে নাইটদের। তবে চেন্নাইয়ের বোলিং আহামরি নয়। রাহানেরা একটু আক্রমণাত্মক খেললেই চাপে পড়ে যাবেন ওভারটন, কম্বোজ, খলিল আহমেদরা। স্পিনার নুর আহমেদও দেদার রান বিলোচ্ছেন। তাই পাওয়েল, রিঙ্কুরা ঝোড়ো ব্যাটিং করলে চেন্নাই-এক্সপ্রেস ফের লাইনচ্যূত হতেই পারে। মরশুমে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর পাবেন না রাহানেরা। নববর্ষে জয়ের হালখাতার আশায় সমর্থকরা।