


নয়াদিল্লি: চাইলেও জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালীকে পুরোপুরি খুলে দিতে পারছে না ইরান। আর এর জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলার সময় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল আটকাতে জলের নীচে সামুদ্রিক মাইন পেতেছিল ইরানের সেনা। কিন্তু কোথায় কোথায় সেই মাইন পাতা হয়েছিল, এখন তা আর চিহ্নিত করতে পারছেন না তেহরান। ফলে সেগুলিকে নিষ্ক্রিয় করতে পারছে না ইরানি সেনা। সম্ভবত তাদের কাছে সমুদ্রের নীচে থাকা মাইন নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তিও নেই। হরমুজ প্রণালী সব জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ খুলে দিতে হবে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া শর্ত মেনেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান। কিন্তু মাইন সমস্যা কাটিয়ে কবে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ পুরোপুরি চলাচল শুরু করবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হতেই হরমুজ আটকাতে উদ্যোগী হয় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। ছোটো ছোটো নৌকায় করে এলোমেলোভাবে প্রণালীজুড়ে মাইন পাতে তারা। কোনো জাহাজ জোর করে প্রণালী পার হতে গেলে বিস্ফোরণ হতে পারে বলে বারবার সতর্কবার্তাও জারি করে আইআরজিসি। তবে, প্রণালীর একটি অংশ দিয়ে টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড়পত্র দেয় তারা। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান কিছু মাইন এমনভাবেই পেতেছিল যে সেগুলি জলের ধাক্কায় আসল জায়গা থেকে সরে গিয়েছে। ফলে এখন সেগুলিকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। এছাড়া কোথায় মাইন পাতা হয়েছে, তার রেকর্ড আদৌ আইআরজিসির কাছে রয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এখনই যে মাইন সরানো সম্ভব হবে না, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে তেহরানও। মাইনের ঝুঁকি এড়াতে হরমুজের বিকল্প জলপথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে তারা।