


নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ধাক্কা খেল আমেরিকা। ইরানের অতর্কিত হানায় ধ্বংস হয়ে গেল অত্যাধুনিক মার্কিন রেডার। জর্ডনে মোতায়েন টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড)-এর রেডার ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিল তেহরান। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রেডার ব্যবস্থায় আঘাত পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড়োসড়ো ক্ষতি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
জর্ডনের মুয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল এই সিস্টেমটি। উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, থাডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এএন/টিপিওয়াই-২ রেডার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মার্কিন প্রশাসন এই ক্ষতির কথা স্বীকার করেনি। তবে উপগ্রহ চিত্রের উল্লেখ করে ইরানের হামলায় ক্ষতির বিষয়টি জানিয়েছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। পরে এক মার্কিন আধিকারিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স ডেমোক্রেসিস নামে থিঙ্ক ট্যাঙ্কের তথ্য অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৩ মার্চ ওই বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিকাল পাওয়ারের ডেপুটি ডিরেক্টর রায়ান ব্রোবাস্টের মতে, ‘থাডের উপর সফল হামলা এই যুদ্ধে ইরানের অন্যতম সাফল্য।’ যদিও তাঁর মতে, একটি রেডার ধ্বংস হওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষার জন্য খুব একটা মাথাব্যাথার কারণ নয়।
সাধারণভাবে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা মোকাবিলায় ব্যবহার করা হয় থাড মিসাইল সিস্টেম। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের আগেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিতে পারে এই সিস্টেম। ইরানি হামলা গুরুত্বপূর্ণ অংশে আঘাত করায় স্বাভাবিকভাবেই অকেজো হয়ে পড়েছে গোটা থাড সিস্টেম। এরফলে সুরক্ষা ব্যবস্থার চাপ এসে পড়বে অপেক্ষাকৃত ছোট পাল্লার প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেমের উপর। ইতিমধ্যেই প্যাট্রিয়ট থেকে ছোড়ার জন্য প্যাক-৩ মিসাইলের জোগানের ঘাটতি রয়েছে বলে খবর।
গোটা বিশ্বজুড়ে মোট ৮টি থাড মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন রয়েছে। তার মধ্যে দুটি দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামে। পুরো সিস্টেমের মোট দাম ১০০ কোটি ডলার করে। এই ডিফেন্স সিস্টেমের সঙ্গে থাকে ৯০ জন সেনাকর্মী। ডিফেন্স সিস্টেমটির বহরে থাকে ৬টি ট্রাক, যার সঙ্গে যুক্ত থাকে লঞ্চার। পাশাপাশি থাকে একটি রেডার, কমিউনিকেশন ইউনিট ও ফায়ার কন্ট্রোল। এই ডিফেন্স সিস্টেমে থাকা প্রতিটি মিসাইলের দাম ১ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার। এর আগে কাতারে মোতায়েন মার্কিন এএন/এফপিএস-১৩২ রেডার সিস্টেম ধ্বংস করেছিল তেহরান।