


ইসলামাবাদ ও তেহরান: অনিশ্চয়তার মধ্যে আশার আলো! আমেরিকার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছে ইরান! আলোচনার জন্য শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে গিয়েছে ইরানের প্রতিনিধিদল। যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইসলামাবাদের পাশাপাশি ওমান ও রাশিয়া সফরেও যেতে পারেন আরাঘচি। সূত্রের খবর, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন আরাঘচি। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, আমেরিকার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসার জন্য আরাঘচিকে অনুরোধ করেছিলেন পাকিস্তানে উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার। এরমধ্যে জানা গিয়েছে, আরাঘচির সঙ্গে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠাচ্ছেন। শুক্রবার সংবাদসংস্থাকে একথা জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। আলোচনায় অগ্রগতি ঘটলে পাঠানো হতে পারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সকে। যদিও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি ইরান। তবে জানা যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহান্তেই দু’পক্ষ বৈঠকে বসতে পারে। এর আগে ১১ এপ্রিল বৈঠকে বসেছিল দুই দেশ। কিন্তু, প্রায় ২১ ঘণ্টা বৈঠকের পরেও কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি।
এদিকে, ইরানের প্রশাসনিক দায়িত্ব বর্তমানে কার হাতে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রশাসনিক কার্যকলাপের পুরোটাই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি দখল নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও কোণঠাসা করে ফেলেছে তারা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে সব সময় ঘিরে রেখেছেন সেনা সদস্যরা। ফলে খামেনেইয়ের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ এখন কার্যত নেই।
মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়েও ক্রমশ ধোঁয়াশা বাড়ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, মোজতবার মুখ ও ঠোঁট ভয়াবহভাবে পুড়ে গিয়েছে। ফলে তিনি ভালোভাবে কথাই বলতে পারছেন না। এর জন্য প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া তাঁর একটি পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। কিন্তু তাতে লাভ না হওয়ায় কৃত্রিম পা লাগানোর চিন্তাভাবনা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের দাবি, দেশের দায়িত্বে কে রয়েছেন, তা ঠিক করে উঠতে পারছে না ইরান প্রশাসন। যার জেরে দেশটিতে কট্টরপন্থী এবং মধ্যপন্থীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ শুরু হয়েছে। যদিও ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালির বার্তা, ‘ইরান একজন ঈশ্বর, একজন নেতা, এক রাষ্ট্র ও একই পথে বিশ্বাস করে। কোনো কট্টরপন্থী, মধ্যপন্থী নেই। আমরা সকলেই ইরানের নাগরিক ও বিপ্লবী।’
শুক্রবার আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিটার হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, বিশ্বের কাছে উপহারস্বরূপ। যত দিনই লাগুক, ইরানের যুদ্ধজাহাজ অবরোধের কাজ চালিয়ে যাবে আমেরিকা।