


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) কোটায় ডাক্তারিতে ভর্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম মামলার তদন্তে মঙ্গলবার সাত সকালেই কড়েয়া, বালিগঞ্জ, নিউটাউন সহ পাঁচটি জায়গায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এর মধ্যে রয়েছে এক মহিলা আইনজীবীর বাড়ি ও একটি কোচিং সেন্টার। এই সেন্টার থেকেই ছাত্রছাত্রী জোগাড় করা হতো বলে অভিযোগ। উদ্ধার হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের নামের তালিকা ও টাকা লেনদেনের নথি।
জাল নথি নিয়ে এনআরআই কোটায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে অনিয়মের তদন্তে ২০২৪ সালে ইসিআইআর (মামলা) করে ইডি। তাদের তদন্তে একাধিক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের নাম উঠে আসে। যেখানে ভুয়ো নথি জমা দিয়ে এনআরআই কোটায় স্থানীয় ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়েছেন। এক একটি সিট বিক্রি হয়েছে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকায়। তার ভিত্তিতে ২০২৪ ডিসেম্বরে একাধিক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে হানা দেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির অফিসাররা। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ঘেঁটে কারা কারা এই কোটায় ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁদের বিস্তারিত তথ্য পান। তাঁদের জমা দেওয়া এনআরআই সার্টিফিকেট যাচাই করে ইডি জানতে পারে, সেগুলি জাল।
তদন্তে উঠে আসে, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পাঠরত ছাত্রছাত্রীরা নিউটাউনে একটি নির্দিষ্ট কোচিং সেন্টারে কোচিং নিত। সেখানকার এক ‘মিডলম্যান’ গোটা বিষয়টি পরিচালনা করছে। ছাত্রছাত্রী জোগাড়ের পর তাঁদের এনআরআই সার্টিফিকেটও তৈরি করে দিয়েছে এই মিডলম্যান। বিভিন্ন দূতাবাসের নাম করে নকল শংসাপত্র তৈরি হয়। ওই মিডলম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের। সে তাদের ছাত্রছাত্রী সরবরাহ করত। নিউটাউনের ওই কোচিং সেন্টারে তৈরি হতো জাল এনআরআই সার্টিফিকেট। গোটা ঘটনায় এক মহিলা আইনজীবীর নাম জড়ায়। অভিযোগ, তিনি এই জালিয়াতিতে সাহায্য করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার কড়েয়ার ওই আইনজীবীর বাড়ি, নিউটাউনে ওই কোচিং সেন্টার, বালিগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি সহ মোট পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ঘেঁটে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। চক্রে আরও কয়েকজন রয়েছে। একইসঙ্গে সেখান থেকে যে তালিকা মিলেছে, তার সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে দেওয়া তালিকা মিলে যাচ্ছে। এখান থেকেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত, এই ছাত্রছাত্রীদের নকল নথি নিউটাউনে তৈরি হয়েছিল। আর কারা চক্রে রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।