


সন্দীপন দত্ত, মালদহ: ইংলিশবাজারে এবারের বিজেপি প্রার্থী কি চাঁচলের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ? রাজনৈতিক মহল থেকে চায়ের ঠেক, সর্বত্রই এনিয়ে চর্চা তুঙ্গে। চাঁচলে এবার নীহারের বদলে প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এদিকে, দু’দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরও ইংলিশবাজার আসনটি ফাঁকা রেখেছে বিজেপি। দুটি তালিকার কোনওটিতেই দলের বর্তমান বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর নাম নেই। এতেই সম্ভাব্য নয়া সমীকরণ দেখছে রাজনৈতিক মহল। তারউপর নীহার নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ফোন করেছিল তাঁকে। ফলে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনা।
এবার উত্তরবঙ্গে দলের অনেক প্রবীণ নেতাকেই প্রার্থী করেনি তৃণমূল। কোচবিহারে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে খগেশ্বর রায় টিকিট পাননি। ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীকেও প্রার্থী করেনি জোড়াফুল শিবির। বাদ পড়াদের তালিকাতেই রয়েছেন নীহারও। শুক্রবার নীহার বলেন, দিল্লি থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ফোন পেয়েছি। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, দিল্লি থেকে প্রার্থী ঠিক করা হচ্ছে। ফলে এনিয়ে জেলার কাছে কোনো তথ্য নেই।
সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। শেষমুহূর্তে বড় কোনো অঘটন না ঘটলে বিজেপির টিকিটেই ভোটের ময়দানে দেখা যেতে পারে চাঁচলের এই বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ককে। নীহাররঞ্জন ঘোষের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ২০০৫ সালে। সেবার প্রথম নির্দল প্রার্থী হিসেবে তিনি ইংলিশবাজার পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হন। এবং বামেদের সমর্থনে পুরসভার চেয়ারম্যানও হয়ে যান। এরপর নির্দল হয়ে লড়েন ২০১৬’র বিধানসভায়। তাঁকে সমর্থন করে বাম-কংগ্রেস। জিতে ইংলিশবাজারের বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরের বছর অবশ্য তৃণমূলে যোগদান করতেই দল ফের তাঁকে ইংলিশবাজারের চেয়ারম্যান করে।
একুশের ভোটে তৃণমূলের প্রতীকে চাঁচল থেকে লড়াই করেন তিনি। জয়ীও হন। ইংলিশবাজারে প্রচারে নেমে ঝড় তুলছেন তৃণমূল প্রার্থী আশিস কুণ্ডু। দলের প্রাক্তন কাউন্সিলার তিনি।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানেরও দায়িত্ব সামলেছেন বেশ কিছুদিন। এই কেন্দ্রের বাম প্রার্থীও প্রচারে নজর কাড়ার চেষ্টায় মরিয়া। কিন্তু দেখা নেই বিজেপির।
প্রথম দফায় মালদহের ১২টির মধ্যে ৯টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে গেরুয়া শিবির। দ্বিতীয় দফায় আরো দু’টি আসনে প্রার্থী দিলেও বাদ রাখা হয়েছে ইংলিশবাজার। দল বদলে নীহার কি এই শূন্যস্থান পূরণ করতে চলেছেন, এই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষাতেই এখন জেলার রাজনৈতিক মহল।