


তেল আভিভ: আমেরিকা-ইজরায়েলের জোড়া হামলায় বিপর্যস্ত ইরান। পালটা জবাবে আরব দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলির পাশাপাশি ইজরায়েলকেও নিশানা করেছে তেহরান। আর সেই কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে তেল আভিভ। যার ফলে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে ইজরায়েল। আগামীতে এই অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা বজায় থাকলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বা ২৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। সম্প্রতি হোম ফ্রন্ট কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল শাই ক্ল্যাপারকে লেখা এক চিঠিতে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল ইলান রম। অবিলম্বে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উপর আরোপিত কড়া বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সম্ভব হলে ধাপে ধাপে বাজার-দোকান ও কর্মস্থল খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রম চিঠিতে বলেন, ‘বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা নীতি বজায় রাখা জরুরি—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে আর্থিক লেনদেন বন্ধ রাখলে বড়ো মূল্য চোকাতে হবে।’
শনিবার ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। পালটা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। জবাবি হামলায় ইজরায়েলে আছড়ে পড়েছে একের পর এক ড্রোন-মিসাইল। নিরাপত্তার স্বার্থে ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া যে কোনো জমায়েত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস, বাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতেই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে। অর্থমন্ত্রকের প্রস্তাব, ‘রেড অ্যালার্ট’ থেকে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ স্তরে নিয়ে আসা হোক। যেখানে সীমিত অর্থনৈতিক কার্যকলাপের অনুমতি থাকবে। তাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।