


সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: পয়লা বৈশাখে সদ্য বিয়ে দেওয়া মেয়ের বাড়িতে মাছ পৌঁছে দেওয়া হয়। মেয়ের বাবা, কাকা, মামা বা মেসো মাছ কিনে, অথবা নিজেদের পুকুর থেকে ধরে পৌঁছে দিয়ে আসেন। ঝাড়গ্রাম তথা পুরো জঙ্গলমহলের কুড়মি জনজাতির মানুষ প্রাচীনকাল থেকে এই ‘মাছ পৌঁছা’ রীতি পালন করে আসছেন। কুড়মি জনজাতির বিয়ের নানা রীতির মধ্যে এটি অন্যতম। সেইসঙ্গে তাঁদের মধ্যে চৈত্র সংক্রান্তিতে ছাতু বা কুঁঢ়া পরব ও পয়লা বৈশাখে আমের সঙ্গে মাছ রান্না করে খাওয়ার প্রাচীন রীতি রয়েছে। লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞরা জানান, বৈশাখের শুরু থেকেই গ্রীষ্মের প্রখর রোদ থাকে। তাই যাতে সময়মতো বৃষ্টি আসে, প্রকৃতি সবুজ ও নদীনালা জলে ভরে থাকে, সেজন্য চৈত্র সংক্রান্তিতে প্রকৃতি পুজোয় আম ও জলাশয়ের মাছ উৎসর্গ করা হয়। পয়লা বৈশাখে তাই আম ও মাছ মিশিয়ে রান্না করা হয়। এখনও এলাকায় অনেক মন্দিরের পুজোর প্রসাদে মাছ থাকে। মাছকে ‘গঙ্গাফল’ বলেন অনেকেই।
কুড়মি জনজাতি অধ্যুষিত জঙ্গলমহল, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলায় চৈত্র সংক্রান্তিতে ছাতু বা কুঁঢ়া পরব অনুষ্ঠিত হয়। এই পরব শেষে পয়লা বৈশাখের দিন গ্রামের লোকজন সবাই মিলে পুকুর বা বাঁধে মাছ ধরেন। বেশিরভাগ বাড়িতে সেদিন আমের সঙ্গে মাছ মিশিয়ে তরকারি রান্না হয়।
কুড়মালি ভাষা ও সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ কিরীটি মাহাত বলেন, ‘মাছ পৌঁছা’ সংস্কৃতি আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। এসমস্ত সংস্কৃতির বিষয়ে গবেষণা প্রয়োজন। সাঁকরাইলের সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ভূপেন মাহাত বলেন, মাছ পৌঁছানো রীতি পুরো ঝাড়গ্রাম এলাকায় প্রচলন আছে। এছাড়া, আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে দু’টি নতুন গাড়ুতে-একটিতে দই অন্যটিতে চ্যাং মাছ রাখা হয়। পয়লা বৈশাখ মাছ পৌঁছানোর সময় মেয়ের বাড়ির লোকজনদের হলুদ জলে পা ধুইয়ে বরণ করা হয়। তাঁদের নতুন বস্ত্র দেওয়ার নিয়মও রয়েছে। পরে কোনও সময় মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকেও একইভাবে মেয়ের বাড়ি মাছ পৌঁছনো হয়।