


গুয়াহাটি: ‘অপরাধ’ শুধু বাংলায় কথা বলা। স্রেফ তার জন্যই ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের উপর হেনস্তার ঘটনা বাড়ছে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে। পুলিস-প্রশাসনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বটেই, বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে ওপার বাংলায় পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দিল্লি থেকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আর তার মধ্যেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা খোলাখুলি জানিয়ে দিলেন, অসমের কোনও বাসিন্দা জনগণনার নথিতে মাতৃভাষা বাংলা লিখলেই বোঝা যাবে রাজ্যে কতজন বিদেশি (বাংলাদেশি) বসবাস করছে। হিমন্তের বার্তা স্পষ্ট, দিল্লি বা ওড়িশার মতো বিজেপিশাসিত অসমেও কেউ যদি বাংলা ভাষায় কথা বলে, তাহলে তাকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই অসম সরকার কোচবিহারের এক বাসিন্দাকে এনআরসির নোটিস পাঠিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে। এবার বাংলা ভাষা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক আরও বাড়ালেন হিমন্ত।
সম্প্রতি অল বিটিসি মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠনের নেতা মইনুদ্দিন আলি জানিয়েছিলেন, জনগণনার সময় রাজ্যের বাংলাভাষী মুসলিমরা নিজেদের মাতৃভাষা হিসেবে অসমিয়ার পরিবর্তে নথিতে বাংলা লিখবেন। তাতে একদিন অসমিয়ায় কথা বলা মানুষই অসমে সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। ধুবড়িতে যেভাবে বহু মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তার প্রতিবাদেই এমন আহ্বান জানিয়েছিলেন মইনুদ্দিন। তার প্রেক্ষিতেই পাল্টা মুখ খুলেছেন হিমন্ত। তাঁর দাবি, ‘ভাষাকে কখনই ব্ল্যাকমেলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। অসমের রাজ্য ও সরকারি ভাষা হিসেবে অসমিয়া চিরস্থায়ী। তাই কেউ যদি জনগণনার সময় বাংলা ভাষার কথা লেখেন, তাতে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা নির্ধারণ করাই সহজ হবে।’
হিমন্তের দাবি, নদীর চর এলাকায় যারা বসবাস করে, তারা সবসময়ই নিজেদের মাতৃভাষা বাংলা লিখে থাকে। তবে যে মুসলিমরা অসমের আদি বাসিন্দা, তারা নিজেদের মাতৃভাষা অসমিয়াই লেখেন। কিছু মানুষ চায় অসমের মানুষ তাদের সামনে ঝুঁকুক। কিন্তু তাদের এবার সরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়াও বন্ধ হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন হিমন্ত।