


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁর মেয়েকে ‘খুন’ করা হয়েছে! সংবাদমাধ্যমে বারবারই এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত ছাত্রীর বাবা। কিন্তু, রবিবার পর্যন্ত যাদবপুর থানায় কোনও অভিযোগ করেননি তিনি। দুর্ঘটনাবশত ঝিলের জলে পড়েই ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। যদিও সবদিক খোলা রেখে অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। সেই সূত্রেই তদন্তকারীদের নজরে এবার মৃত ছাত্রীর মোবাইল ফোন। ঘটনার সময় ফোন লোকেশন, কল ডিটেলস রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখার জন্য মোবাইলটি পুলিশি ‘হেপাজত’-এ নেওয়া হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের দাবি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যেই ঝিলে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় ইংরেজি বিভাগে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকার। সঙ্গী ছাত্রীদের একাংশের দাবি, মদ্যপান করছিলেন অনামিকা। তার থেকেই বেসামাল হয়ে ঝিলে পড়ে যান তিনি। অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছান ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ সাবার্বান ডিভিশন) বিদিশা কলিতা। ক্যাম্পাসের ভিতরের ঝিলে পড়ে গিয়ে ছাত্রীর মৃত্যু হতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই অকুস্থল পরিদর্শন করেন অটোপসি সার্জন।
বিকেলে ঘটনাস্থলে যান ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। ঝিল পাড়ের জায়গাটি কতটা পিচ্ছিল, তা পরীক্ষা করেন বিশেষজ্ঞরা। এরপর বাঁশের একটি বড় কঞ্চি নিয়ে ঝিলের জলের গভীরতা বোঝার চেষ্টা করেন তাঁরা। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি ও ছবি তুলে রাখা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, অনামিকা মণ্ডলের হাঁটার পদ্ধতি পরীক্ষা করার জন্য গেট প্যাটার্ন প্রযুক্তি
ব্যবহার করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের কাছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ছাত্রীকে ঝিল পাড় ধরে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। তাঁর অন্য হাঁটাচলার ভিডিয়ো সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। সমস্ত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা দেখবেন, ওইদিন অনামিকার হাঁটায় কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল কি না। লালবাজার জানিয়েছে, যাঁরা প্রথম ঝিলের জলে অনামিকার দেহ ভেসে থাকতে দেখেছিলেন এবং যাঁরা ছাত্রীকে উদ্ধার করেছিলেন, তাঁদেরও এদিন থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। মোট সাতজনকে তলব করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনের বয়ান নেওয়া হয়েছে এদিন। তাঁদের প্রত্যেকেরই দাবি, এটি দুর্ঘটনা।
যদিও মেয়ের মৃত্যুকে খুন বলেই সংবাদমাধ্যমের কাছে বারবার দাবি করছেন বাবা অর্ণব মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘মেয়েকে কিছু খাইয়ে জলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হতে পারে। কেউ হয়তো কুপ্রস্তাব দিয়েছিল, মেয়ে সহমত না-হওয়ায় জলে ধাক্কা দিতে পারে। এর জন্য শেষ কয়েক ঘণ্টা মেয়ে কার কার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিল, পুলিশ খতিয়ে দেখলেই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রোহতকর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কলকাতার সিপিকে চিঠি দিয়ে তিনদিনের মধ্যে ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক রিপোর্ট–সহ যাবতীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।