


ইসলামাবাদ: অপারেশন সিন্দুরে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল জয়েশ-ই-মহম্মদ সুপ্রিমো মাসুদ আজহারের প্রিয়জনদের দেহ। বাহওয়ালপুরে জঙ্গি সংগঠনের সদর দপ্তরে ভারতের মিসাইল হামলায় প্রাণ যায় মাসুদের বড়ো বোন সহ পরিবারের ১০ সদস্যের। এবার আরও বড়ো ধাক্কা। নিহত জয়েশের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তথা মাসুদ আজহারের ভাই মহম্মদ তাহির আনোয়ার। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্রমে ঘনাচ্ছে রহস্য। জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক বছর জয়েশের একের পর এক অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাহির আনোয়ার। দাদার ছায়াসঙ্গী হয়ে সামলেছে পুরো টেরর নেটওয়ার্ক। দিনকয়েক আগে পারিবারিক বিবাদের জেরে মৃত্যু হয় লস্কর-ই-তোইবার কমান্ডার বিলাল আরিফ সারাফির। এবার মাসুদ আজহারের ভাই। নেপথ্যে অন্য কোনো
কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও চর্চার শেষ নেই।
সোমবার সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠনের অফিশিয়াল চ্যানেলে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেইসূত্রে জানা যায়, ওইদিন রাতে বাহওয়ালপুরে জামিয়া মসজিদ উসমান ওয়ালিতে তাহিরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা, কোনো দুর্ঘটনা নাকি হামলার জেরে এই মৃত্যু, তা নিয়ে সংগঠনের কারও তরফে কোনো বক্তব্য মেলেনি। সূত্রের খবর, জইশের অন্যতম মাথা ছিল তাহির। সশস্ত্র জঙ্গিদের পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। পরে তাকে মারকাজ উসমান-ও-আলির দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত বছর অপারেশন সিন্দুরের সময় এই মারকাজেই অস্থায়ী ঠিকানা গড়ে তুলেছিল মাসুদ। ২০০১ সালে ভারতের সংসদ ভবন, ২০১৬ সালে পাঠানকোট বিমানঘাঁটি, উরি ও ২০১৯ সালে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার সঙ্গে যোগসূত্র মিলেছে জয়েশ-ই-মহম্মদের। আর এই হামলাগুলিতে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মাসুদের ভাই তাহিরের।
এরই মাঝে আমেরিকার কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের রিপোর্টে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, এখনও জঙ্গিদের ট্রেনিং থেকে শুরু করে লজিস্টিক সাপোর্ট জুগিয়ে চলেছে ইসলামাবাদ। বর্তমানে সে দেশের মাটিতে সক্রিয় ১৫টি জঙ্গি সংগঠন। তালিকায় রয়েছে লস্কর-ই-তোইবা, জয়েশ-ই-মহম্মদও।