


বছরভর জামাই আপ্যায়ন হয় ঠিকই। কিন্তু বছরের একটা নির্দিষ্ট দিন ষষ্ঠী পালন করেন শাশুড়ি ঠাকরুন। মেয়ে, জামাই অতিথি হয়ে আসে তাঁর কাছে। নানা ধরনের রান্নায় সাজিয়ে দেওয়া হয় জামাইয়ের খাবার থালা। সঙ্গে উপহার আদানপ্রদানে আনন্দে কাটে পারিবারিক মুহূর্ত। তিন সেলেব দম্পতির জামাইষষ্ঠীর পরিকল্পনা কেমন? সে কথাই শোনালেন তাঁরা।
প্রথমেই সবথেকে পুরনো জামাইয়ের কথা। বছরের হিসেবে এবার যাঁর পাঁচ বছরের জামাইষষ্ঠী। তিনি অভিনেতা গৌরব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার বললেন, ‘আমাদের বরাবর জামাইষষ্ঠী বাড়িতেই পালন করা হয়। কোনও রেস্তরাঁ নয়, মায়ের হাতের রান্নায় জমিয়ে খাওয়াদাওয়া হয়। এটা একটা ভালো বিষয়, আমাদের বাড়িতে কেউ বাইরে খেতে পছন্দ করে না। সকালে মা, আর রাতে দিদার কাছে খাওয়া হয়। সেখানে বাবার জামাইষষ্ঠী হয়। সঙ্গে গৌরব নাতজামাই।’ মেনুতে কী কী থাকবে? ‘মাটন থাকবে। আমি খেতে ভালোবাসি। আমার জন্য পমফ্রেট মাছও হবে। গৌরব খুব লক্ষ্মী ছেলে। মাছ খেতে খুবই ভালোবাসে। সব মাছই খায়। মা ওর জন্য নানা রকম মাছ রান্না করেন,’ বললেন দেবলীনা।
অভিনেতা ওম সাহানির এটা চতুর্থ জামাইষষ্ঠী। যদিও বিয়ের আগে থেকেই ‘আনঅফিশিয়ালি’ জামাইষষ্ঠী তিনি খেয়েছেন বলে দাবি করলেন তাঁর স্ত্রী তথা অভিনেত্রী মিমি দত্ত। এবারের মেনুতেও থাকবে অভিনেতার পছন্দের নানা পদ। মিমির কথায়, ‘ওম সবসময় বাঙালি খাবার খেতে ভালোবাসে। ওর জন্য বাঙালি খাবারের ব্যবস্থাই করা হয়। মাটন ভালোবাসে। এমনি সময়ও মাসে এক-দু’বার মা মাটন রান্না করে খাওয়ান। কখনও আমার দাদাও রান্না করে খাওয়ায়। কিন্তু জামাইষষ্ঠীর দিন বিশেষভাবে মাটন রান্না করে মা। চিংড়ি খেতেও ওম খুব ভালোবাসে। কিন্তু এবছর আমি বলেছি, একসঙ্গে মাটন, চিংড়ি খেতে দেব না। টানা আউটডোর শ্যুটিং চলছে ওর। এবছর তাই হালকা খাওয়া। মাছের মাথা দিয়ে ডালও খুব প্রিয় ওর। সেটাও থাকবে। এছাড়া পাঁচরকম ভাজা, মিষ্টি তো থাকবেই।’
অভিনেতা জুটি প্রিয়াঙ্কা মিত্র এবং শুভ্রজিৎ সাহার এবার ‘রেজিস্ট্রি জামাইষষ্ঠী’। সেটা কেমন? প্রিয়াঙ্কা বুঝিয়ে বললেন, ‘২০২৪-এর ৩ অক্টোবর আমাদের রেজিস্ট্রি, আশীর্বাদ এবং এনগেজমেন্ট হয়েছে। রেজিস্ট্রির পর এটা প্রথম জামাইষষ্ঠী। এ বছরেরটা খুব স্পেশাল।’ মেনু কী হবে, তা এখনও জানেন না শুভ্রজিৎ। তিনি বলেন, ‘আমার শাশুড়ি মা অসাধারণ রান্না করেন। যখনই আমার ভালো কিছু খেতে ইচ্ছে করে, শ্বশুরবাড়িতে চলে যাই। এবার জামাইষষ্ঠীতে আমার জন্য এমন কিছু স্পেশাল রান্না থাকবে, যেগুলো আগে কখনও খাইনি। এক্সক্লুসিভ কিছু রেসিপি থাকবে। পুরোটাই সারপ্রাইজ।’
তিন দম্পতিই এই বিশেষ দিনে সাজের মধ্যে বাঙালিয়ানা বজায় রাখেন। মিমির কথায়, ‘মায়ের দেওয়া নতুন পোশাক আমরা দু’জনেই পরি। শাড়ি আর ধুতি পাঞ্জাবি। বাঙালি সাবেকি সাজে সাজতে ভালোবাসি। বাড়ির অনুষ্ঠান। তাই হালকা শাড়ি। আমাকেও কাজ করতে হয়। তাই বেশি সাজগোজ করি না।’ দেবলীনার কথায়, ‘নতুন শাড়ি প্রতি বছরই পরি। ওরও নতুন পোশাক। মা এই উপলক্ষ্যেই নতুন পোশাক দেন। মা, বাবাও নতুন পোশাক পরেন।’ প্রিয়াঙ্কা বললেন, ‘বাঙালিয়ানা বজায় রেখেই সাজব আমরা। শুভ্রদীপ তো ধুতিও পরতে পারে। ওকে বলেছি, হাতে মাছ, মিষ্টি নিয়ে ঢুকবি। আমি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক চালিয়ে দেব (হাসি)।’
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। উপলক্ষ যাই হোক, আনন্দ খুঁজে নেওয়াই আসল। মিমি বললেন, ‘আগেরবার মায়ের শরীর খারাপ ছিল। তাই সেভাবে জামাইষষ্ঠী পালন করা যায়নি। মায়ের মনখারাপ হয়ে গিয়েছিল। এবার মা, মাসি সকলে মিলে জমিয়ে জামাইষষ্ঠী খাওয়াবে ওমকে। আমার শ্বশুর, শাশুড়িও থাকবেন। একটু বড় করেই হবে। সকলে মিলে আনন্দ করার সুযোগ তো বিশেষ পাওয়া যায় না। তাই সুযোগ এলে সেটা হাতছাড়া করি না।’ দেবলীনার উপলব্ধি, ‘আমাদের চারজনের একসঙ্গে খেতে বসা হয় না ব্যস্ততার জন্য। এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করে থাকি। সারা বছর ছুটছি। ফলে এফর্ট দিয়ে যে একসঙ্গে সময় কাটানো, এটাই আসল। সম্পর্ক দৃঢ় হয় এতে। দিদিমার কাছে গিয়ে জামাইষষ্ঠী খাওয়ার সৌভাগ্য সকলের হয় না। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান, সেই সুযোগ রয়েছে। আমার মেসো বিদেশে থাকেন। পরপর দু’বছর শুধু জামাইষষ্ঠী খাবে বলে চলে এসেছিলেন। সব মিলিয়ে এটা আমাদের কাছে পারিবারিক আনন্দের দিন।’
স্বরলিপি ভট্টাচার্য