


বিশ্বজিত্ দাস, কলকাতা: বাইরের ওষুধও বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিল দেওয়া হচ্ছে না। ওষুধগুলি জাল বা নিম্নমানের কি না, বুঝব কী করে? রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জমা পড়ল জনঔষধি দোকানের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি রাজ্য রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে। মানুষজনকে সতর্ক করার পাশাপাশি ওষুধ সংক্রান্ত যেকোনও অভিযোগ জানাতে একটি মোবাইল নম্বর এবং দুটি ই-মেল আইডি জানিয়েছে।
মোবাইল নম্বরটি হল ৭৯০৮০৭৭৬১৫। সেখানেই ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ করে বেশকিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। তারই মধ্যে অন্যতম হল প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি পরিযোজনার ওষুধের দোকান নিয়ে অভিযোগ। অভিযোগে বলা হয়েছে, জনঔষধির তালিকাভুক্ত ওষুধ ছাড়াও বাইরের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। তাতে বিলও দেওয়া হচ্ছে না।
এছাড়া ওই নম্বরে ফোন করে বহু মানুষ জানতে চেয়েছেন ভেজাল ওষুধ চিনবেন কী করে! ওষুধ জাল কি না ধরতে স্ট্রিপ ও বিলে থাকা ব্যাচ নম্বর মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছিল রাজ্যের প্রচারে। বেশকিছু মানুষ ওই ফোন নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করে জানিয়েছেন, তাঁদের কেনা ওষুধের ব্যাচ নম্বরের সঙ্গে বিলের ব্যাচ নম্বর মিলছেই না! এখন কী করবেন তাঁরা।
ড্রাগ কন্ট্রোল সূত্রের খবর, বিজ্ঞাপনে প্রচারিত ড্রাগ কন্ট্রোলের নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করে এক ব্যক্তি জানান, তিনি জনঔষধি থেকে সম্প্রতি থাইরয়েডের ওষুধ কিনেছিলেন। কোনও বিল দেওয়া হয়নি। এক পাতা ওষুধের দাম পড়ে ৫৫ টাকা। কিন্তু খেয়ে তাঁর কোনও কাজ তো হয়ইনি, উল্টে শরীর খারাপ হয় তাঁর। তখন ওষুধের স্ট্রিপ ভালো করে দেখে লক্ষ্য করেন, স্ট্রিপে দাম লেখা আছে ১১৫ টাকা। মানে ডিসকাউন্টে ওষুধটি বেচা হয়েছে তাঁকে। তাঁর খটকা লাগে। জনঔষধিতে তো এমন হওয়ার কথা নয়। সন্দেহ হওয়ায় তিনি ড্রাগ কন্ট্রোলের নম্বরে ফোন করেন। তখন সেই নম্বর থেকেই বলা হয়, আসল বিল নিয়ে আসুন। তা আনতে দোকানে গেলে প্রথমে কিছুতেই ক্যাশমেমো দেওয়া হয়নি। না দিলে অভিযোগ করবেন, এসব কথা বলায় তখন বিল দেওয়া হয় তাঁকে।
রাজ্যে একাধিক জনঔষধির দোকান চালানো এক ব্যবসায়ী এই ধরনের ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, কিছু দোকানে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ আসায় ইতিমধ্যেই জনঔষধির আধিকারিকরা বিহারের বেগুসরাই জেলায় কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন। এমনকী তিনটি দোকান বন্ধও করে দিয়েছেন তাঁরা।
কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? প্রায় চার দশকের ওই ওষুধ ব্যবসায়ী বলেন, জনঔষধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ওষুধের সরবরাহের। সরকারি উদ্যোগে আনুমানিক ৩০টি ওষুধ নির্মাতা জনঔষধির ওষুধ তৈরি করে। ১১৭৫টি ওষুধ জনঔষধি দোকানগুলি থেকে বিক্রি হয়। কিন্তু একবার শেষ হয়ে গেলে পরের ধাপে কবে ওষুধ আসবে, তা তাঁরাই জানেন না। সেই কারণে রোজ সরবরাহের অভাবের জন্য প্রচুর ক্রেতার গালমন্দ শুনতে হয় তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতা ধরে রাখতে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বাইরের জেনেরিক ওষুধ লুকিয়েচুরিয়ে দোকানে রাখতে শুরু করেছেন। ড্রাগ কন্ট্রোলের এক কর্তা বলেন, সমস্ত অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।