


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে আগামী সোমবার জিন্দাল শিল্পগোষ্ঠীর অত্যাধুনিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শিল্যানাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি ইউনিট তৈরি করতে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার নবান্নে জানিয়েছেন। পূর্ব ভারতে এটাই প্রথম কোনও সুপার ক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য সরকার আয়োজিত বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে (বিজিবিএস) জিন্দাল শিল্প গোষ্ঠীর কর্ণধার সজ্জন জিন্দাল রাজ্যে এই প্রকল্পটি গড়ার কথা ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, বিজিবিএস-এ আরও যে-সমস্ত শিল্প প্রকল্প ঘোষণা হয়েছিল, দ্রুত রূপায়িত হচ্ছে সেগুলিও। শালবনির তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটি তৈরির কাজও দ্রুত শুরু হবে। এখানে কর্মসংস্থান হবে বিপুল সংখ্যায়। জিন্দল গোষ্ঠী রাজ্যে কয়েকটি শিল্প তালুক গড়বে।
এদিকে সরকারি সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ে একটি বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এখানে প্রথম পর্যায়ে ১১২.৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়বে অদূর ভবিষ্যতে। এটিই হতে চলেছে রাজ্যের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি একটি জার্মান সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি নির্মাণ করছে। মঙ্গলবার মেদিনীপুরে একটি সরকারি অনুষ্ঠান থেকে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। আরও বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে বিদ্যুতের দাম কমবে। রাজ্য সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ায় না, অন্য একটি সংস্থা এটি করে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কিছু করার থাকে না। আগামী দিনে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে আরও কয়েকটি বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাগরদিঘিতে ৬৬০ মেগাওয়াটের পঞ্চম ইউনিটটি তৈরির কাজ চলছ। বক্রেশ্বর ও দুর্গাপুরে ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট এবং ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট গড়া হবে সাঁওতালডিহিতে। দেউচা পাচামির কয়লায় রাজ্যের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির একশো বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। -ফাইল চিত্র