


নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের ১৫ জুন। লাদাখের গলওয়ানে ভারত-চীন সংঘর্ষ। সেই প্রাণঘাতী সংঘর্ষ চিড় ধরিয়েছিল দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে। জোড়া লাগাল ট্রাম্প-ট্যারিফ। আর তাতে বিশল্যকরণীর কাজ করল খোদ জি জিনপিংয়ের পাঠানো ‘গোপন’ চিঠি! ব্লুমবার্গের একটি রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট মার্চ মাসে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি পাঠিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে। চিঠিতে জিনপিংয়ের তরফে আসা সৌহার্দ্যের বার্তা রাইসিনা হিলস থেকে পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে। সম্পর্কের শৈত্য কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যে বরফ গলানোর ক্ষেত্রে জিনপিংয়ের এই ব্যক্তিগত চিঠির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত কূটনৈতিক মহলের। ওই চিঠি পাঠানোর পরপরই জিনপিংয়ের
একটি মন্তব্য গোটা বিশ্বের নজর কেড়ে নেয়। ভারত-চীন মৈত্রীর বার্তা হিসেবে তিনি বলেন, এবার ড্রাগন ও হাতির ব্যালে নৃত্য দেখবে গোটা দুনিয়া। পরবর্তীকালে চীনের
একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের কণ্ঠেও ‘ড্রাগন-হাতি নৃত্যে’র সেই রূপকের প্রসঙ্গ শোনা গিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারিভাবে পাল্টা শুল্ক সংক্রান্ত ঘোষণা করেন গত ২ এপ্রিল। কিন্তু সেই ইঙ্গিত আসতে শুরু করেছিল কয়েকমাস আগে থেকেই। ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারির আবহেই মার্চে রাষ্ট্রপতি ভবনে এসে পৌঁছায় জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত চিঠি। ব্লুমবার্গের রিপোর্টে দাবি, চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ফেরাতে ভারত আদৌ কতটা আন্তরিক, মূলত সেই জল মাপতেই জিনপিং চিঠিটি লেখেন। সেখানে মার্কিন পদক্ষেপে চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়া নিয়ে উদ্বেগও গোপন করেননি তিনি। ভারত-চীন সম্পর্ককে ফের বন্ধুত্বের রাস্তায় ফেরানোর দায়িত্বভার দিতে তিনি এক প্রাদেশিক কর্তার নামও উল্লেখ করেন।
ব্লুমবার্গের রিপোর্ট বলছে, জিনপিংয়ের চিঠি সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক ফেরানোর বিষয়টি ভারত জুনের আগে পর্যন্ত বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভাবা শুরু করেনি। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায় অতি দ্রুত। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার প্রক্রিয়া ক্রমেই জটিলতর আকার নেয়। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ থামানো নিয়ে বারবার ট্রাম্পের দাবিতেও বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে দিল্লি। এরই মধ্যে চীনের পর ভারতের উপরও চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করে দেয় ওয়াশিংটন। আর এর সুবাদেই ভারত ও চীন ফের কাছাকাছি আসার সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলে। ঠিক করে ফেলে, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগনো হবে। সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘ বিবাদ কাটিয়ে উঠতে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। বন্ধুত্বের বার্তা হিসেবে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী বিমান ফের শুরু হচ্ছে। ভারতে ইউরিয়া রপ্তানির উপর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে চীন। নয়াদিল্লি বহু বছর পর চীনের নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া ফের চালু করেছে। আর সম্পর্কের চাকা ঘোরাতেই সাত বছর পর চীন সফরে গেলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।