


মৃৎশিল্প
আপনি কি শিল্পমনস্ক? মাটির তাল থেকে নানা ধরনের জিনিস বানানো আপনার শখ? তাহলে পেশা হিসেবে বাছতে পারেন পটারি (মৃৎশিল্পী) বা ভাস্কর্য। তার জন্য পেশাগত পড়াশোনা দরকার। সেরামিক, চীনেমাটি, পোড়ামাটি এমন নানা জিনিস দিয়ে সুদৃশ্য টব, ফুলদানি, ডেকরেটিভ প্লেট, কস্টিউম জুয়েলারি সহ আরও অনেক কিছু বানিয়ে ফেলতে পারেন সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। সেরামিক আর্টিস্ট মনীষা চৌহান জানালেন, এই ধরনের পড়াশোনার পর ব্যবসার সুযোগ রয়েছে আবার বিভিন্ন আর্ট গ্যালারির সঙ্গে যুক্ত হয়েও কাজ করা সম্ভব। আবার এই কাজ শিখে নিয়ে পড়ানোর চাকরিও করতে পারেন। এছাড়া ফ্রিলান্স কাজও করা যায়। তবে তার আগে জেনে নেওয়া যাক এই দিকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার উপায়গুলো কী কী।
বেছে নিন পছন্দের দিক
আপনি কোন ধরনের ভাস্কর্যের দিকে যেতে চান সেটা ঠিক করে নিন প্রথমে। পোড়ামাটি, সেরামিক নাকি চায়না ক্লে— কোন মিডিয়ামটা আপনার সবচেয়ে ভালো লাগে সেটা নির্বাচন করে নিতে পারলে দেখবেন কাজের ক্ষেত্রে সুবিধে হবে। এরপর ঠিক করে নিতে হবে কোন ধরনের জিনিস বানাতে আপনি স্বচ্ছন্দ। ডেকরেটিভ প্লেট, মুখোশের মতো ওয়াল ডেকর, ফুলদানি, ফুলের টব, শোপিস, অ্যাবস্ট্রাক্ট পট সহ নানা ধরনের পটারি রয়েছে। এর মধ্যে আপনার যেটা সবচেয়ে ভালো লাগে সেটা বেছে নিয়ে সেই বিষয়ে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে তুলুন। এক্ষেত্রে অবশ্য কয়েকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত একটা মার্কেট সার্ভে বা বাজারের সমীক্ষা করে নেবেন। তাতে ধরা পড়বে কোন জিনিসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সেই অনুযায়ী নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে তুলতে পারলে বিক্রি ও রোজগারে সুবিধে হবে। দ্বিতীয়ত আপনি কোথায় থাকেন, সেখানে শিল্পকলার কদর কেমন তার উপরেও নির্ভর করে আপনার প্রশিক্ষণের বস্তুটি নির্বাচন করুন। সাধারণভাবে দেখা গিয়েছে এমন জিনিস যা রোজকার ব্যবহারে লাগে তার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সেই অনুযায়ী আপনি যদি পট, ফুলদানি ইত্যাদি তৈরি করা শেখেন তাহলে তার কদর সবসময় থাকবে।
দক্ষতা বাড়িয়ে তুলুন
দক্ষতা বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে কিছু জিনিস মাথায় রাখা দরকার। রোজগার দ্রুত হারে বাড়াতে এমন কিছু বানান যেটা বারবার বানাতে পারবেন, খুব তাড়াতাড়ি বানানো যায় এমন কিছু বানান। ছাঁচ তৈরি করে নিয়ে বানানো যায় এমন জিনিস সবচেয়ে দ্রুত হারে, বেশি পরিমাণে বানাতে পারবেন । ফলে এই জিনিসগুলো মাথায় রাখা খুবই দরকার। চীনেমাটি নাকি পোড়ামাটি কোন মিডিয়াম বারবার এবং বেশি সংখ্যায় বানানো যায় সেদিকটাও দেখে নিন। বানানোর খরচটাও খেয়াল রাখবেন। বিক্রির ক্ষেত্রে দাম যত কম রাখা যায় ততই বিক্রির সম্ভাবনা বাড়বে। এই ছোটখাট জিনিসগুলো সবসময় মাথায় রাখা প্রয়োজন। সেই মতোই নিজের প্রশিক্ষণের দিক নির্বাচন করুন।
যে গুণগুলো থাকা দরকার
আপনার শিল্পের প্রতি আকর্ষণ থাকা জরুরি। বিভিন্ন ধরনের পটারি ও তার ধরন খুঁটিয়ে দেখা ও জানা দরকার। নিজস্বতা থাকতে হবে। নাহলে ডিজাইনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন। একই জিনিস যত বেশি নকশায় বানাতে পারবেন, চাহিদা ততই বাড়বে। ধরুন আপনি সেরামিকের পট বানান, তার স্টাইল, মাপ, রং, পেন্টিং সব ক্ষেত্রেই যত বেশি বৈচিত্র্য আনতে পারবেন, আপনার জিনিসের চাহিদা ততই বেশি হবে। একই জিনিস অনেক স্টাইলে বানানোর দক্ষতা তৈরি করুন। এবং এক জিনিস নানাভাবে ব্যবহার করা যায় কি না সেটা দেখুন। যদি ব্যবহার করা যায় তাহলে মাস প্রোডাকশন বা একসঙ্গে অনেকটা তৈরি করলে বিক্রির ক্ষেত্রে সুবিধে হবে। অনেকটা বানাতে পারলে খরচটাও খানিকটা কমবে।
কাজের নানারকম
এবার আসা যাক রোজগারের কথায়।
নিজস্ব স্টুডিও বানিয়ে প্রোডাকশন করতে পারেন এবং তা বিভিন্ন বিক্রেতা মারফত বিক্রি করতে পারেন।
আপনি ভেন্ডার বা বিক্রেতাদের কাছে অর্ডার নিয়ে সেই অনুযায়ী জিনিস বানাতে পারেন। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা আপনার জিনিসটা একটা নির্দিষ্ট দামে কিনবে এবং চাহিদা অনুযায়ী নিজস্ব দামে বিক্রি করবে। এতে ঝুঁকি সবচেয়ে কম তবে রোজগারও একটু কমই হবে।
নিজের স্কুল খুলে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। বাচ্চা এবং বড় যে কেউ এই কাজ শিখতে ইচ্ছুক হবে। আপনাকে একটা কোর্স নির্দিষ্ট করে সেই মতো কোর্স ফি নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রেও চাহিদা অনুযায়ী কোর্স নির্বাচন করুন। পোড়ামাটির কাজ শেখাবেন, নাকি সেরামিক শেখাবেন এবং কোন ক্ষেত্রে কেমন কোর্স ফি রাখবেন সেগুলো সবই মার্কেট সার্ভের ভিত্তিতে ঠিক করে নিন।
একাধিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফ্রিলান্স কাজ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে সংস্থাগুলো যোগাযোগ করে অর্ডার দেবে এবং আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ দেবেন। সেই মতোই আপনার রোজগার হবে। এক্ষেত্রে সময় নির্বাচন, কতটা কাজ আপনি নিচ্ছেন এবং তা ঠিক মতো সময়ে দিতে পারছেন কি না সেই অনুযায়ী আপনার পরবর্তী কাজ পাওয়া ও সুনাম অনেকটাই নির্ভর করবে।
আপনার নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দের দিকে খেয়াল রাখা ভীষণই জরুরি। বাজারে কোন জিনিসের চাহিদা কেমন সেটা যেমন মাথায় রেখে কাজ করতে হবে, তেমনই আবার সেই ভিত্তিতে একেবারে অপছন্দের কোনও কাজে হাত দিয়ে বসবেন না। তাতে কাজের গুণগত মান খারাপ হবে, সুনাম নষ্ট হবে, এবং আখেরে আপনার লাভের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি। যে জিনিসটা বানাবেন সেটা যত স্বতন্ত্র হবে, চেহারায় এবং ব্যবহারিক দিক থেকে ততই চাহিদা বাড়বে। ফলে বাজারের চাহিদা জেনে নেওয়ার পর সেই অনুযায়ী জিনিস বানান কিন্তু একটু ভিন্ন ধারা বজায় রাখুন। দেখবেন লোকে আপনার শিল্পকলার কদর করবে।