


নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: স্কুলের ১১ জন শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে। সেই সঙ্গে চাকরি গিয়েছে আরও দু’জন গ্রুপ ডি কর্মচারীর। ফলে ওই স্কুলে ঘণ্টা বাজানোর লোকও থাকল না। পাশাপাশি স্কুলে রসায়ন বিষয়ে পড়ানো বন্ধ হতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিলের পর এমনই অবস্থা কালীগঞ্জ ব্লকের মীরা হাইস্কুলের। একসঙ্গে এতজন শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। রায় ঘোষণার পর থেকেই তাঁরা আর স্কুলে আসছেন না।
জানা গিয়েছে, মীরা হাইস্কুলে বর্তমানে ১৭৬০ জন পড়ুয়া আছে। স্কুলে মোট ৩৮জন শিক্ষক এবং পাঁচজন অশিক্ষক কর্মী ছিলেন। যার মধ্যে রসায়ন, ইতিহাস, ইংরেজির একজন করে শিক্ষক এবং অঙ্ক, বাংলা, ভৌত বিজ্ঞান, জীবন বিজ্ঞানের দু’জন করে সহ মোট ১১ জন শিক্ষককে হারাতে হচ্ছে মীরা হাই স্কুলকে। সেই সঙ্গে গ্রুপ-ডি’র দুজন কর্মীকেও চাকরি হারাতে হয়েছে। তাঁরাই স্কুলে ঘণ্টা বাজানোর কাজ করতেন। ফলে, বর্তমানে স্কুলের ঘণ্টা বাজানোর লোকও থাকল না। পাশাপাশি স্কুলে এতদিন রসায়ন বিভাগের মাত্র একজন শিক্ষকই ছিলেন। তাঁর চাকরি যাওয়ায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির রসায়ন বিভাগের পড়াশোনা লাটে ওঠার উপক্রম।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মানিককুমার ঘোষ বলেন, খুব সমস্যার মুখে পড়েছি। আমাদের স্কুলের রসায়ন বিভাগের আর কোনও শিক্ষকই থাকল না। স্কুলে পঠন পাঠন কীভাবে চলবে, সেটাই ভেবে পাচ্ছি না।
অন্যদিকে কালীগঞ্জের পলাশী হাইস্কুলেও দশজন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। যার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরের দিকে মিছিল করল স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। স্কুলের শিক্ষককে ফিরিয়ে আনার দাবি জানায় তারা। স্কুল থেকে পলাশী মনুমেন্ট পর্যন্ত তারা মিছিল করে। ফিলা সুলতানা নামে এক ছাত্রী বলে, আজ আমাদের স্কুলের সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা পলাশী মনুমেন্ট পর্যন্ত মিছিল করেছি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কারণে আমাদের স্কুলের ৪০জন শিক্ষকের মধ্যে ১০ জন শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে। আমরা এখন দশম শ্রেণিতে পড়ছি। এই মুহূর্তে যদি স্কুলের শিক্ষক না থাকে আমরা খুব সমস্যা পড়ব। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তুরাব উদ্দিন মোল্লা বলেন, এই চাকরি বাতিলের ফলে আমাদের বিজ্ঞান বিভাগের অবস্থা খুব খারাপ। হাতে গুনে দু-একজন শিক্ষক থাকল। আমাদের স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। এই চাকরি-বাতিলের ফলে স্কুল চালাতে খুবই সমস্যায় পড়তে হবে।