


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: প্রশ্ন: বিশ্বকাপে ভারত খেলছে, এমন স্বপ্ন দেখেন?
বাইচুং: দেখুন স্বপ্ন সবাই দেখে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সত্যিই হতাশাজনক। কোনওরকমে এএফসি এশিয়ান কাপের টিকিট পেলেই যথেষ্ট। ফেডারেশনের ‘ভিশন ২০৪৭’ ঠিক কী তা কেউ জানে না। কোনও নির্দিষ্ট রোডম্যাপ নেই। এভাবে কুমির ছানা দেখানো বন্ধ হোক।
প্রশ্ন: ফেডারেশন কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে কী বলবেন?
বাইচুং: যত কম বলা যায় ততই ভালো। সভাপতি কল্যাণ চৌবে পুরোপুরি ফ্লপ। গিমিক আর সস্তা প্রচার ছাড়া কোনও কাজ নেই। শুনলাম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার খেলানোর বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেবেন। ভালো কথা। আরে কাজ করতে হয় নিঃশব্দে। এই বিষয়ে উনি প্রধানমন্ত্রী, ক্রীড়া দপ্তর বা বিভাগীয় কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন কি? তার বদলে মিডিয়ায় স্টেটমেন্ট দিতে ব্যস্ত। কল্যাণের শুধুই মুখে মারিতং জগত। আসলে বিগ জিরো। ফেডারেশনের হাতে টাকা নেই। শুধু লবির খেলা চলছে।
প্রশ্ন: হতাশাজনক পরিস্থিতি বদলের উপায় কী?
বাইচুং: ফেডারেশনকেই ভাবতে হবে। তার জন্য সদিচ্ছা দরকার। গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্ট নিয়ে গালভরা প্রচার। ভিতরে ফাঁপা। পুরোটাই লোক দেখানো। মিজোরাম আর হাতে গোনা কয়েকটি রাজ্য ছাড়া ফুটবল নিয়ে কেউ ভাবেন না। ঘরোয়া লিগ প্রায় শেষ। আই লিগ টিমটিম করে জ্বলছে। কল্যাণ আসার পর কোনও উন্নতি হয়নি। দিশা দেখাতে ব্যর্থ। প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে এমন ছবি দেখা সত্যিই কষ্টকর।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সুনীলের খেলা কেমন লাগল?
বাইচুং: সুনীল গ্রেট ফুটবলার। কিন্তু নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। দেখুন এএফসি এশিয়ান কাপের ম্যাচে ২০২৬ সালে শেষ। সুনীল ততদিন খেলবে তো? আসলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাই নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে মালদ্বীপকে হারাতে সুনীলকে দরকার ছিল না। ওর বদলে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়াই যেত। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের খেলা দেখে কষ্ট হচ্ছিল। কোনওরকমে সুনীলকে উদ্দেশ্য করে বল ভাসানো। এত হেড করলে বেচারাকে ঘাড়ের সমস্যায় না ভুগতে হয় (হেসে)।