


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এনজিওতে আবাসিক হিসাবে থাকা এক নাবালিকাকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সার্ভে পার্ক থানা এলাকায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে প্রসেনজিৎ দাস নামের ওই এনজিওর এক ক্যারাটে শিক্ষককে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ওই নাবালিকার পাশাপাশি অন্যদেরও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা অনেকদিন ধরেই এনজিওতে আবাসিক হিসাবে থাকে। সেখানেই পড়াশোনা করে। তার সঙ্গে থাকে আরও অনেক নাবালিকা। ওই এনজিওতে কোষাধ্যক্ষের কাজ করার পাশাপাশি ক্যারাটে শেখায় অভিযুক্ত। অভিযোগ, এক নাবালিকাকে এক বছর আগে যৌন নিপীড়ন করে ওই যুবক। প্রায় চার মাস ধরে চলে কুকীর্তি। নাবালিকা অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এনজিওর অন্যদের বিষয়টি জানায়। তারাই খবর দেয় চাইল্ড ওয়লেফেয়ার কমিটিকে। কমিটির সদস্যরা এসে ওই নাবালিকার সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় কিছুই জানাতে পারেনি। তাকে পাঠানো হয় হোমে। স্বাভাবিক হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে বলে, যৌন নিপীড়ন করেছে সেখানকার ক্যারাটে শিক্ষক। নাবালিকার বাড়ি রবীন্দ্র সরোবর থানায় হওয়ায় সেখানে অভিযোগ জানানো হলে জিরো এফআইআর করে পুলিশ। ঘটনাস্থল সার্ভে পার্ক এলাকায় হওয়ায় আদালত মারফত সেই কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয় সার্ভে পার্ক থানায়। তারা পকসো আইনে কেস রুজু করে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে অভিযুক্তকে। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ক্যারাটে শেখানোর সময় নাবালিকাদের যৌন হেনস্তা করত। একথা যাতে তারা কাউকে না বলে, তার জন্য ভয় দেখাত। জানাজানি হলে পরিণাম ভালো হবে না, এই বলেও শাসানি দিত। সেই কারণেই এতদিন কেউ অভিযোগ জানানোর সাহস দেখায়নি। গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি সামনে আসায় এ নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।