


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনুশীলনের নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজারহাটের সেন্টার অব এক্সেলেন্সের মাঠে পৌঁছল ভারতীয় টিম। তবে টিম বাসে দেখা গেল না কোচ খালিদ জামিলকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, অনেক আগেই অনুশীলনের মাঠে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুম্বইকর। ড্রেসিং-রুমে বসেই ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে চোখ রেখেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার অজিদের বিরুদ্ধে একটা সময় পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জেতে আনসেলোত্তি ব্রিগেড। ম্যাচে সেলেকাওদের দুর্বলতা নজর এড়ায়নি ভারতীয় কোচের। তবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে সবার আগে রক্ষণ অটুট রাখাই বড়ো চ্যালেঞ্জ খালিদের। সেই মতো কলকাতায় প্রথমদিনের অনুশীলনে রক্ষণ সংগঠনের উপর জোর দেন তিনি।
বেঙ্গালুরুতে পানামার বিরুদ্ধে লিড নিয়েও জয় হাতছাড়া করেছিল ভারত। তবে উত্তর আমেরিকার দেশটির থেকে কয়েকগুণ শক্তিশালী ব্রাজিল। বিশেষত প্রতিপক্ষের আপফ্রন্টে ভিনিসিয়াস, রাফিনহা, উইলিয়ান, রায়ান, এনড্রিকের মতো ফুটবলার রয়েছেন। তাই ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে আনোয়ার-বিজয় ভার্গেসদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই কথা মাথায় রেখে মঙ্গলবার অনুশীলনে বিভিন্ন ফর্মেশনে ডিফেন্ডারদের ঝালিয়ে নেন খালিদ। এই পর্বে রায়ান উইলিয়ামসকে সামনে রেখে চলে প্রস্তুতি। এরপর চলে সিচ্যুয়েশন প্র্যাকটিস। আর সবার শেষে গুরপ্রীত-গিলদের বিরুদ্ধে পেনাল্টি শুট-আউটে নিজেদের পরখ করে নেন সাহাল-মনবীররা।
ক্লাব ফুটবলে গতবার ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে আইএসএল জেতেন জয় গুপ্তা। চলতি মরশুমেও লাল-হলুদ জার্সিতে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করছেন তিনি। মূলত উইং-ব্যাক হলেও কোচ হাবাস অবশ্য তাঁকে বেশিরভাগ সময় উইং-হাফে ব্যবহার করছেন। নতুন পজিশনে দারুণ ভরসা জোগাচ্ছেন জয়। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন বাদে খুলেছে জাতীয় দলের দরজা। পানামা ম্যাচে পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নেমেছিলেন। এবার ব্রাজিলের বিরুদ্ধেও সুযোগ পেলে নিজেকে উজাড় করে দিতে মরিয়া তিনি। জয় গুপ্তা বলেন, ‘ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ বারবার আসে না। ফুটবলার হিসাবে এটা বড়ো প্রাপ্তি। তবে বিপক্ষে যে থাকুক, আমরা সেরাটা উজাড় করে দেব। কোচ ও সেটা বুঝিয়েছেন। ইস্ট বেঙ্গলে খেলার সুবাদে কলকাতা এখন আমার শহর। সেখানে দেশের জার্সিতে ভালো কিছু করতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে। এক্ষেত্রে কপিল দেবের হাত ধরে ক্রিকেটে বিশ্বজয় আমার বড়ো অনুপ্রেরণা। কে ভেবেছিল, বিধ্বংসী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারবে ভারত। পরবর্তী সময়ে এই সাফল্য গোটা দেশে আমূল পরিবর্ত ঘটিয়েছিল। ফলে খেলার মাঠে কোনোকিছুই অসম্ভব নয়।’
এদিকে, জাতীয় দলের অনুশীলনের সময় মাঠে অ্যাম্বুলেন্স থাকাটা বাধ্যতামূলক। তবে মঙ্গলবার প্র্যাকটিস শেষে ফুটবলাররা টিম বাসে ওঠার পর মাঠে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্স। যা নিয়ে কিছুটা হলেও বিরক্ত ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।