


নয়াদিল্লি: ‘সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযান চালানো হবে।’ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর হুংকার দিয়েছিল ইরান। আর তা যে স্রেফ কথার কথা নয়, তা রবিবারই বুঝিয়ে দিল তারা। তেহরানের পালটা হামলায় কার্যত বিপর্যস্ত পশ্চিম এশিয়া। কাতারের রাজধানী দোহায় এদিন একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে। শহরের দক্ষিণ অংশ ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়। একই পরিস্থিতি দুবাইতে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরিখে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই শহরে দিনভর একের পর এক বিস্ফোরণ হয়েছে। এই অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত বন্দর জেবেল আলি, পাম জুমেইরার মতো এলাকাও রক্ষা পায়নি। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দুবাইয়ে আহত হয়েছেন দু’জন। বাহরিনের রাজধানী মানামা, ওমানের ডুকুম বন্দরেও ড্রোন হামলা চলে। এখানেই থামেনি ইরানি সেনা। আশঙ্কা সত্যি করে হরমুজ প্রণালীকেও নিশানা করেছে তারা। স্কাইলাইট নামে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো হয়। ওই ট্যাঙ্কারটি এদিন ওমানের মুসানদাম উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল। হামলার সময় ওই ট্যাঙ্কারে ২০ জন কর্মী ছিলেন। তার মধ্যে ১৫ জনই ভারতীয়। ইরানের হামলায় চার জন জখম হলেও সকলকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। ওমান জানিয়েছে, স্কাইলাইটে হামলার পরেই ডুকুম বন্দরেও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয় সমস্ত তেলবাহী জাহাজ চলাচল। হরমুজ নিয়ে ইরান কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর ছিল সকলের। কারণ, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাসের সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমেই। এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ প্রায় ৩০০ কোটি লিটার তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। যার প্রভাব পড়বে ভারত সহ সমগ্র বিশ্বে।
ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভ ও হাইফা লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। একাধিক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিধ্বস্ত পরিস্থিতি তেল আভিভের। চারিদিকে বহুতলের ধ্বংসাবশেষ। জ্বলছে গাড়ি। বিস্ফোরণের ছবি ধরা পড়েছে জেরুজালেমের রাস্তাতেও। হামলায় তেল আভিভে একজন ও জেরুজালেমে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ১১ জন। প্রাণহানির খবর মিলেছে অন্য শহরেও। একই পরিস্থিতি হাইফার। চুপ করে নেই ইজরায়েলও। ইরানের রাজধানী লক্ষ্য করে রবিবার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। ইরানের সরকার ও সেনাবাহিনীর শীর্ষকর্তাদের লক্ষ্য করে ‘টার্গেটেড অ্যাটাক’ করা হচ্ছে। ইরানের সরকারি টিভির সদর দপ্তর, তেহরানের গান্ধী হাসপাতালেও হামলা হয়। জবাবে কুয়েতের আবদুল্লা মুবারক এলাকায় মার্কিন নৌঘাঁটিতে মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণ চালায় ইরান। মৃত্যু হয় ৩ মার্কিন সেনার। মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনেও মিসাইল হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান। যদিও তা অস্বীকার করে আমেরিকা। পালটা ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস কোর ও নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের একাংশের পাশাপাশি ন’টি রণতরী ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্ব আলোচনায় আগ্রহী। আমিও কথা বলতে রাজি।’
শনিবার খামেনেইয়ের বাসভবনে আছড়ে পড়েছিল একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। তিনি জীবিত কি না, জল্পনা শুরু হয়। রাতে তেহরান জানায়, প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬ বছর বয়সি খামেনেই। মৃত্যু হয়েছে তাঁর মেয়ে, জামাই, নাতনির। এর ‘প্রতিশোধ’ যে ইরান নেবে, তা বুঝিয়ে দিতে রবিবার জামকারান মসজিদের উপরে ‘লাল পতাকা’ ওড়ানো হয়। আপাতত দায়িত্ব সামলাবে ৩ সদস্যের অস্থায়ী লিডারশিপ কাউন্সিল। খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই শোক প্রকাশের জন্য ইরানের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে পড়ে বহু মানুষ। যদিও এর উলটো ছবিও রয়েছে। আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ইরানিরা খামেনেইয়ের মৃত্যুতে উল্লাসে মাতেন। ট্রাম্প লেখেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিদের মধ্যে একজন খামেনেই মারা গিয়েছেন।’