


অভিষেক পাল, খড়গ্রাম: ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হয়েছে উন্নয়ন। খড়গ্রাম বিধানসভায় বিধায়ক তহবিলের ১০০ শতাংশ টাকা খরচ করেছেন বিধায়ক আশিস মার্জিত। এই উন্নয়নের নিরিখেই মানুষ ফের তাঁকে ভোট দেবেন, দাবি শাসকদলের প্রার্থীর। বিরোধীদের দাবি, উন্নয়ন হয়েছে, তবে সেটা তৃণমূল নেতাদের। সেই নিরিখেই এবার ভোট হবে।
২০২১-’২২ এবং ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে ৬০ লক্ষ টাকা করে পেয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক আশিস মার্জিত। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের প্রতি অর্থবর্ষে ৭০ লক্ষ করে টাকা করে তিনি পেয়েছেন। পাঁচ বছরে মোট ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এই অর্থে মোট ১২৮টি প্রকল্পের কাজ করেছেন খড়গ্রামের তৃণমূল বিধায়ক। বিধায়ক তহবিলের ৩২৯.৯৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ১০০ শতাংশ।
বিধায়কের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে, দ্বারকা নদীর উপরে কজওয়ে। যেটা নির্মাণ করতে ৩০ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ওই কজওয়ের একটি অ্যাপ্রোচ রোড বানাতেও বিধায়ক তহবিল থেকে ৯ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা খরচ করেছেন। বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে এক লক্ষ টাকা খরচে ছোটো ছোটো রাস্তা করেছেন। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল। তার জন্য ৪ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ও বাজারে প্রচুর মিনিমাস্ট লাইট লাগিয়েছেন। প্রতিটি লাইট লাগানোর জন্য আড়াই লক্ষ টাকা করে খরচ হয়েছে। যদিও বিরোধীরা কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
খড়গ্রামের কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, বিধায়ক তহবিলের ১০০ শতাংশ টাকা খরচ করেছেন বলে উনি দাবি করছেন। কিন্তু, বাস্তবে হয়েছে উন্নয়নের নামে প্রহসন। কোথাও ঢালাই রাস্তার উপর পুনরায় ঢালাই হয়েছে। যেখানে ছ’ইঞ্চি দেওয়ার কথা, সেখানে তিন ইঞ্চি ঢালাই করেছেন। কন্ট্রাক্টরদের সঙ্গে টাকা ভাগাভাগি হয়েছে। আসল উন্নয়ন কিছু হয়নি। যদি উন্নয়নই করে থাকবে তাহলে জনগণের কাছে এত ভোট প্রচারের দরকার কি?
বিজেপি নেতা প্রকাশ রাজবংশী বলেন, উনি তিনবার বিধায়ক হয়েছেন। তাঁর কাজের ধারা খড়গ্রাম বিধানসভার মানুষ জানে। যে সমস্ত অঞ্চলের ভোটাররা তাঁকে জিতিয়েছেন, তাঁরাই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এলাকার উন্নয়ন তো দেখতে পাচ্ছি না। তহবিলের ১০০ শতাংশ টাকা কোথায় খরচ হল? নগর থেকে সুন্দরপুর এবং বিভিন্ন এলাকার রাস্তা বেশ খারাপ, চলার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
খড়গ্রামের সিপিএমের প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহা বলেন, এখানে ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সিপিএমের বিধায়ক ছিল। খড়গ্রাম স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল সবকিছুই বামফ্রন্ট সরকারের আমলে হয়েছে। তৃণমূল আসার পরে একটাও বড় সেতু কিংবা বড় স্কুলের উদাহরণ দিতে পারবে না। বরং এসএসকে, এমএসকে বন্ধ হয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে ডাক্তার নেই। বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নেই। পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন হয় না। গত ১৫ বছর খড়গ্রামের জন্য একটা কালো অধ্যায়।
তৃণমূল বিধায়ক বলেন, সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি। বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াই। উন্নয়নের কাজের নিরিখে আমি আশাবাদী। গতবারের ভোট প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অধিকাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আমার বিধায়ক তহবিলের আর একটা টাকাও পড়ে নেই। মানুষ কাজ দেখেই আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করবেন। বিরোধীরা কাজ করে না। ভালো কাজ দেখতেও পায় না।