


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভাগা যেদিকে যায়, সাগর শুকায়ে যায়। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অবস্থা সেরকমই। গতবারের ব্যর্থতা ভুলে নতুন লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি চলছিল জোরকদমে। নিলামের পর দারুণ ভারসাম্য তৈরি হয়েছিল দলে। কিন্তু মুস্তাফিজুর কাণ্ডের পর থেকে হঠাৎই নাইট শিবিরে কালোছায়া। ছাব্বিশের আইপিএলে মাঠে নামার আগে চোট সমস্যা হয়ে উঠেছে কিং খানের দলের মাথাব্যথার বড় কারণ। হর্ষিত রানাকে নিয়ে আশা ছেড়েই দিয়েছেন কোচ অভিষেক নায়ার। তাঁর গলায় ঝরে পড়ল একরাশ হতাশা, ‘হর্ষিত এমন একজন বোলার, যার বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। ওর অভাব আমরা বোধ করব।’
শুক্রবার বিকেলে অজিঙ্কা রাহানে, ডোয়েন ব্রাভো, অভিষেক নায়ার, শেন ওয়াটসনদের সম্মিলিত সাংবাদিক সম্মেলন যখন চলছিল ইডেনে, তখনই জানা গেল, শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাথিরানার মাঠে নামতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। ক্রিকেট শ্রীলঙ্কা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, তারকা পেসারের এখনও ফিজক্যাল টেস্ট হয়নি। তারপর শুরু হবে রিহ্যাব। টিম ম্যানেজমেন্টও জেনে গিয়েছে, প্রথম দু’তিনটি ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম।
সেই কারণেই বিকল্প খোঁজার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে কেকেআর শিবিরে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইডেনে প্রথম প্র্যাকটিস ম্যাচ দেখে মনে হল মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দেবেন বৈভব অরোরাই। কার্তিক ত্যাগীকে তৈরি রাখা হচ্ছে। নিলেন তিনটি উইকেটও।
কেকেআরের বোলিং কোচ ডোয়েন ব্রাভোর কথা শুনে মনে হল, পেস আক্রমণের খামতি ঢাকতে আপাতত দুই তারকা স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিনের উপর ভরসা রাখছে দল। নারিন কবে যোগ দেবেন, তা বলা কঠিন। হয়তো সরাসরি মুম্বইয়ে নামবেন তিনি। বরুণ শুক্রবার প্র্যাকটিসে ছিলেন। কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপে আচমকাই তিনি ফর্ম হারিয়ে চাপে পড়ে যান। তবে ক্যাপ্টেন রাহানে তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন। তাঁর কথায়, ‘বরুণ আমাদের সেরা স্পিনার। বিশ্বকাপে ওর বিরুদ্ধে বিপক্ষ দলের ব্যাটাররা ভালো খেলেছিল। তার কৃতিত্ব ব্যাটারদেরই প্রাপ্য। তবে দশ দিনের মতো বিশ্রাম পেয়েছে ও। এখন অনেক তরতাজা। আশা করি, আইপিএলে পুরানো ফর্মে দেখতে পাব বরুণকে।’
গতকাল রাতেই কলকাতায় পা রেখেছিলেন তিন কিউয়ি ক্রিকেটার ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্ট ও রাচীন রবীন্দ্র। বিমানবন্দরে তাঁদের ঘিরে কেকেআর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বাঙালি বাবুর সাজে রাচীন ঝড় তুলেছেন সমাজমাধ্যমে। অঞ্জন দত্তর কালজয়ী গানের কলি ‘এটা কি টু ফোর ফোর...’ শোনা গেল তাঁর গলায়। প্র্যাকটিস ম্যাচে অবশ্য সেভাবে সাড়া ফেলতে পারলেন না রাচীন। সেইফার্টের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে দ্রুত ফিরলেন ডাগ-আউটে। তবে সেইফার্ট হাঁকালেন ঝোড়ো ৪৭। রিভার্স সুইপে বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতেই করতালি দিতে দেখা গেল ওয়াটসনকে। রিঙ্কুও তুলে তুলে মারছিলেন। রাসেলের অভাব ঢাকার দায়িত্ব যে তাঁর কাঁধেই। সঙ্গী হতে পারেন রামনদীপ। কোচ নায়ার বললেন, ‘ডেথ ওভারে ম্যাচ বের করার জন্য রিঙ্কু-রামন আছে।’
আসলে বোলিংয়ের দুর্বলতা ঢাকতে ব্যাটারদের নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব। তবে বিদেশি চয়নে বেশ বেগ পেতে হবে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টকে। ক্যামেরন গ্রিনকে কীভাবে কাজে লাগানো উচিত, তা নিয়েও চর্চা চলছে। পেস বোলিংয়ে খামতি মেটাতে তাঁকে ব্যবহার করা হবে। এই প্রসঙ্গে ওয়াটসন বলেন, ‘আমাদের ব্যাটিং খুবই শক্তিশালী। তবে শুধু ব্যাটারদের উপর নির্ভর করে ম্যাচ জেতা যাবে না। তাহলে গতবার সানরাইজার্স চ্যাম্পিয়ন হতো। টিম গেমের উপর জোর দিতে হবে। ক্যামেরন গ্রিনের মতো অলরাউন্ডার দারুণ ভারসাম্য গড়ে তুলবে। তবে এখনও ঠিক হয়নি, প্রথম ম্যাচে কাদের খেলানো হবে। সেই সিদ্ধান্ত হবে প্র্যাকটিস ম্যাচের পর।’