


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শতাব্দীপ্রাচীন কলকাতা শহরের বাতাস এখন ‘বিষবাষ্প মুক্ত’! বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুরসভার লাগাতার প্রচেষ্টার সুফল মিলেছে হাতেনাতে। সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে খোদ কেন্দ্রীয় সরকার। বায়ু দূষণের সূচক অনুযায়ী, কলকাতার বাতাস এখন অনেকটাই পরিষ্কার এবং শ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই উল্লেখযোগ্য ‘পারফরম্যান্স’-এর জন্য ‘ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম’ (এন-ক্যাপ) খাতে ১৬৮ কোটির বেশি টাকার বিশেষ ফান্ড বা তহবিল পেয়েছে কলকাতা পুরসভা। এর বাইরে পুরস্কার হিসেবে কলকাতাকে দেওয়া হয়েছে আরও ১৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে প্রায় ১৮৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল জুটেছে কলকাতা পুরসভার ভাগ্যে।
তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ছ’বছরে এবারই প্রথম বায়ু দূষণের সূচক (পি এম ২.৫) অনেকটা ভালো। শহরের বাতাসে ক্ষতিকারক ধূলিকণার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেকটা কমে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে শহরের বাতাসে ক্ষতিকারক ধূলিকণা কমাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুরসভা। যেমন, একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হল ‘মিস্ট ক্যানন’ দিয়ে বাতাসে জল স্প্রে করা। করোনা-কালে এই ক্যানন দিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেটাই শীতকালে শহরের বাতাসের ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া, নিয়মিত গাছে জল দেওয়া, রাস্তা ধোয়ানো থেকে শুরু করে বেশি পরিমাণে গাছ লাগানো সহ নানারকম পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুরসভা। এসব কারণেই বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকারক ধূলিকণার হার ক্রমশ কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তার জন্যই কেন্দ্রের এই বিশেষ তহবিল জুটেছে কলকাতার ভাগ্যে। সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তরফে এন-ক্যাপের আওতায় ১৬৮ কোটি টাকা ইতিমধ্যে পুরসভার হাতে চলে এসেছে। তবে প্রায় ১৬ কোটি টাকার যে বিশেষ ইনসেন্টিভ পেয়েছে কলকাতা, তা এখনও হাতে আসেনি। মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘নানাবিধ কাজের মাধ্যমে আমরা শহরের বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের এই উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’ পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘এই ফান্ডের মধ্যে কিছু অর্থ হাওড়া এবং বারাকপুর পুরসভাকে দিতে হবে। বাকি সবটাই কলকাতার পরিবেশের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু হাওড়াকে টাকা দিতে গেলে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ, এই ফান্ড দেওয়ার শর্তাবলীতে স্পষ্ট বলা রয়েছে, নির্বাচিত বোর্ড ছাড়া অন্য কাউকে টাকা দেওয়া যাবে না। হাওড়াতে তা নেই এখনও।’ যদিও করোনা-কালে কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড না থাকা সত্ত্বেও এই খাতে টাকা মিলেছিল এবং সেই সময় হাওড়াকেও টাকা দেওয়া হয়েছিল।