


অর্ক দে , কলকাতা:
বাঁশি নয়। গান। গান শুনিয়ে বাড়ি বাড়ি ময়লা সংগ্রহ করতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। বছরখানেক আগে বারুইপুর পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার একই উদ্যোগ নিতে চলেছে কলকাতা পুরসভাও।
কলকাতা পুরসভার জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, দীঘায় বিশেষ করে সমুদ্র তট পরিষ্কার রাখতে এই ধরনের মিউজিক থেরাপির ব্যবস্থা হয়েছে। প্রতিমুহূর্তে প্রচারমূলক বার্তার সঙ্গে বিশেষ জিংগল বা গান চলে। কলকাতার সমস্ত ওয়ার্ডে তেমনই করার পরিকল্পনা হয়েছে। অর্থাৎ চিরাচরিত বাঁশি বন্ধ করে গান শুনিয়ে ঘুম ভাঙাতে চায় কলকাতা পুরসভা। গান চলবে, সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তাও। বাড়ি বাড়ি ময়লা সংগ্রহ করতে যে ব্যাটারিচালিত ছোট আকারের গাড়িগুলি রয়েছে সেগুলিতে সাউন্ড বক্স বসানো হবে। ডেঙ্গু সচেতনতা প্রচারের মতো সেখানে বাজবে গান বা জিংগল। আপাতত কয়েকটি গাড়িতে এমন বক্স লাগিয়ে ময়লা সংগ্রহ চালু করতে চাইছে পুর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বাঁশির একঘেয়েমি কাটবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। এছাড়া নাগরিকরা সাত সকালে সুরেলা অনুভূতি পাবেন। সবকটি ব্যাটারিচালিত গাড়িতে এই ব্যবস্থা না করে ওয়ার্ড পিছু একটি গাড়ি চালানো হবে। যা প্রতিদিন বা অন্তত সপ্তাহে তিন-চার দিন পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বর্জ্য সংগ্রহ করবে। পাশাপাশি শহর পরিষ্কার রাখার বিষয়ে গান শুনিয়ে সচেতনতা প্রচারও করবে। প্রস্তাবটি শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত গত কয়েকবছর ধরে কলকাতায় উৎসেই জঞ্জাল পৃথকীকরণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে নীল এবং সবুজ রঙের বালতি দেওয়া হয়েছে। সবুজ বালতিতে নিত্যদিনের পচনশীল বর্জ্য এবং নীল বালতিতে অপচনশীল বা প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য জমাতে বলা হয়েছে নাগরিকদের। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের প্রায় ৬০% অঞ্চলে এই ব্যবস্থা সফলভাবে চলছে। বাকি ৪০ শতাংশ জায়গায় সমস্যা হয়। বেশ কিছু ওয়ার্ড থেকে বর্জ্য সংগ্রহ সেভাবে হয়ই না। আমাদের কর্মীরা নিয়মিত গিয়ে বাঁশি বাজান, তা শুনেও অনেকে আসেন না। ময়লা ফেলেন না। যার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক মাস আগে বিশেষ অভিযান হয়েছিল। জঞ্জাল পড়ে থাকলে শহরবাসীকে ফোন করে জানাতে বলা হয়েছিল। তারপর ঘণ্টা দু’য়েকের মধ্যে জঞ্জাল সাফাইও হয়েছে। এই ধরনের অভিনব পরিষেবা সারাবছর চালিয়ে যেতে হবে। তাই জঞ্জাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন চিন্তা-ভাবনা চলছে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আধিকারিক বলেছেন, কি ধরণের গান থাকবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ময়লা তোলার জন্য যতগুলি ব্যাটারিচালিত গাড়ি রয়েছে, সবকটিতেই একটি বক্স লাগিয়ে পেনড্রাইভ দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সকালে যখন বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল তুলতে যাবে, তখন জিংগল চলবে। কিংবা কিছু গাড়ি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। সেখানে গান বাজবে। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরবে সেগুলি। নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে অভিনবত্ব আনতেই এই ব্যবস্থা। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবকটি ওয়ার্ডে একসঙ্গে চালু করা না গেলেও আপাতত যে ওয়ার্ডগুলি থেকে জঞ্জাল সংগ্রহ কম হয় সেইসব জায়গায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই সঙ্গীত ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে। যাতে পুরসভার গাড়িতে রোজকার জঞ্জাল দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে নাগরিকের।