


সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: অচেনা নম্বর থেকে এসেছিল ভিডিয়ো কল। তা রিসিভ করে সাইবার প্রতারণার শিকার হলেন কোতুলপুরের এক যুবক। এক মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিয়ো বানিয়ে তা পরিচিতদের কাছে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে ১ লক্ষ ৬১হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সাইবার প্রতারকরা। মান সম্মান খোয়ানোর ভয়ে ওই যুবক তাঁর সঞ্চিত সব টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। তারপরেও তাঁকে জানানো হয় মুম্বই পুলিশের কাছে তাঁর নামে ধর্ষণের অভিযোগ হয়েছে। গ্রেপ্তারি এড়াতে আরও লক্ষাধিক টাকার দাবি করা হয়। এমনকি, ভিডিয়ো কলে পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তি তাঁকে গ্রেপ্তার করতে আসছে বলে ভয় দেখানো হয়। কিন্তু, আর টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় শেষে তিনি সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই যুবক বলেন, আমি অনেক মানুষকে সাইবার প্রতারণার ফাঁদে যাতে না পড়ে তার জন্য অচেনা নম্বর থেকে প্রলোভনে পড়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছি। বাড়িতেও অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলে সাবধান করেছি। কিন্তু, শেষে কোনো দোষ না করেও আমি নিজেই ফেঁসে গেলাম। শুধুমাত্র মান সম্মান খোয়ানোর ভয়ে আমি প্রতারকদের টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু, নানা অজুহাতে টাকার চাহিদা বাড়তে থাকায় শেষে বাধ্য হয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়েছি।
ওই যুবক গোটা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, কয়েকদিন আগে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করে জানায় অনলাইনে ফোনের রিচার্জ করার জন্য দু’হাজার টাকা বোনাস জমে আছে। এখনই তা না তুললে ওই টাকা আর পাওয়া যাবে না। পরে একটি ভিডিয়ো কল আসে। সেটি রিসিভ করলেও ওই প্রান্ত থেকে কাউকে দেখা যায়নি। তাই কিছুক্ষণ পরেই তা কেটে দিই। পরের দিন আমার হোয়াটসঅ্যাপে সুপার ইম্পোজ করা একটি অশ্লীল ভিডিয়ো পাঠানো হয়। টাকা না দিলে বন্ধু বান্ধব পরিচিতদের মোবাইলে তা পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। কোনো দোষ না করেও আত্মসম্মান বাঁচাতে তিন দফায় প্রায় ৮০হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে ভিডিয়ো কল করে মুম্বই পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি ফোন করে হিন্দিতে জানায়, আমার নামে এক মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে। ভয় পেয়ে ওদের কথা মতো আরও ৮১ হাজার টাকা দিই। তাতেও ওরা ক্ষান্ত হয়নি। আরও লক্ষাধিক টাকা দাবি করে। কিন্তু, আমার কাছে আর কোনো টাকা ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে আমি কোতুলপুর থানায় বিষয়টি জানাই। পরে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দায়ের করি।