


সুকান্ত বসু, কলকাতা: এবছর কুমোরটুলিতে চাহিদা বেশি একচালার দুর্গা প্রতিমার। থিমের মূর্তি যে একবারে হচ্ছে না তা নয়। তবে সাবেকি আদলে তৈরি প্রতিমারই বেশি চাহিদা। তবে কড়া নিষেধাজ্ঞার জেরে এবার প্রতিমার সাজসজ্জায় থার্মোকল আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে শিল্পীদের মধ্যে।
একচালার প্রতিমার বরাত পেয়েছেন প্রচুর শিল্পী। যাঁরা বরাত দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই রথযাত্রা ও জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজো করে তা দিয়ে গিয়েছেন শিল্পীর কাছে। বিভিন্ন মৃৎশিল্পীর ঘরে দেখা যায়, সেই কাঠামোকেই মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে বিভিন্ন আকারের সাবেকি প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। কোথাও পড়েছে রঙের প্রলেপ। কোথাও আবার নানা কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। কুমোরটুলি সূত্রের খবর, বিভিন্ন শিল্পীর ঘরে যে এক চালার দুর্গা সেই কাঠামোতেই গড়ে উঠেছে মা দশভুজার মৃন্ময়ী মূর্তি। কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বাবু পাল জানান, ‘এবার একচালার দুর্গা প্রতিমার বরাত মিলেছে তিন হাজারের উপর।’
পুজো যতই এগিয়ে আসছে পটুয়াপাড়াজুড়ে বেড়েছে চরম ব্যস্ততা। প্রতিটি শিল্পীর ঘরেই গভীর রাতজুড়ে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ইতিমধ্যে দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে কাজে ঘটেছে কিছু বিঘ্ন। শিল্পী চায়না পাল, সমর পাল, রাজা পালদের কথায়, এখন তাঁদের একটাই চিন্তা, সঠিক সময়ে পুজো উদ্যোক্তাদের মণ্ডপে প্রতিমা পৌঁছে দেওয়া। কারণ, নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা সরবরাহ না করলে কোনও অজুহাতই শুনবেন না পুজো কমিটির লোকজন।
ভরা পুজোর মরশুমে প্রতিমার সাজসজ্জায় থার্মোকল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পুলিসি অভিযানকে ঘিরে এবার বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল কুমোরটুলিজুড়ে। ফলে বিভিন্ন প্রতিমা ও সাজশিল্পীদের ঘরে কাজে ঘটেছিল বিঘ্ন। নানা সমস্যায় পড়তে হয় এই কাজের সঙ্গে যুক্ত লোকজনদের। তবে সাজশিল্পী রঞ্জিত সরকার, বিশ্বজিৎ সরকার প্রদীপ দে, পালদের বক্তব্য, শেষের দিকে প্রতিমার যে বরাত মিলেছে, তাতে থার্মোকলের সাজসজ্জার কাজ খুব একটা হয়নি। তবে আগের যে পুজো কমিটির প্রতিমার বরাত মিলেছিল, তাতে সাজসজ্জায় থার্মোকল ব্যবহার করতেই হয়েছে। কারণ, অনেক আগেই সেই সমস্ত প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে এবার কুমোরটুলিজুড়ে থার্মোকল বির্তক আর কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। সেই আবহের মধ্যেই চলছে একচালার প্রতিমার পাশাপাশি নানা আর্টের দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ। কোনও কোনও পুজো কমিটি শেষ মুহুর্তে এসে সরেজমিনে এসে দেখে যাচ্ছেন তাঁদের প্রতিমা তৈরির কাজ কতদূর এগিয়েছে। কেউ কেউ ছবি হাতে মিলিয়ে নিচ্ছেন তাঁদের বরাত দেওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ কতটুকু নিখুঁত হয়েছে।