


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজনৈতিক বিক্ষোভ থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে। তাঁদের রাখা হয়েছে লালবাজারের সেন্ট্রাল লক-আপে। আটক এক নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘স্টেটাস’ দিলেন, ‘আমাদের গ্রেপ্তার করে লালবাজারে আনা হয়েছে’। সঙ্গে লক-আপে আটক থাকার ছবি। আধঘণ্টার মধ্যে একদল লোক চলে এল লালবাজারের গেটের সামনে। শুরু হয়ে গেল বিক্ষোভ। সামাল দিতে জেরবার পুলিশ। নেতা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ হয়ে থাকল কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তরের প্রবেশপথ! অজস্র সংবাদমাধ্যমে তখন ‘লাইভ’ চলছে যাবতীয় ঘটনা। শহরে বড়ো কোনো মিছিল, বিক্ষোভ, অবরোধ থাকলে মাঝেমধ্যেই লালবাজারের সামনে এমন ছবি উঠে আসে। একদিকে যেমন বাড়তি ফোর্স এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কালঘাম ছোটে পুলিশের, অন্যদিকে যানজটের ফলে ভোগান্তির শিকার হয় আম জনতা। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এবার সেন্ট্রাল লক-আপে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের কর্তাদের পর্যবেক্ষণ, লক-আপে বসে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ থাকাতেই অহেতুক কিছু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এই সিদ্ধান্ত। পুলিশ কাউকে ‘সতর্কতামূলক গ্রেপ্তার’ (প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট) করলেও মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তের সঙ্গে থাকা ব্যাগ, অন্যান্য সরঞ্জামও পুলিশের কাছে জমা রেখে ঢুকতে হবে সেন্ট্রাল লক-আপে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিশেষত রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের ‘বন্দি’ অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার রুখতেই এই নিয়ম আনছে লালবাজার। আঁটসাঁট করা হচ্ছে সেন্ট্রাল লক-আপের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা। সেই কাজ শেষ হলেই সেন্ট্রাল লক-আপে এই নয়া নিয়মের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার।
উল্লেখ্য, ‘নিট’ প্রতিবাদ চলাকালীন উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে সতর্কতামূলক গ্রেপ্তারির কোপে পড়েন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে লালবাজারের প্রবেশদ্বারের সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেনরা। পরিস্থিতি সামলাতে বাড়তি ফোর্স আনতে হয় লালবাজারকে। পুলিশের অনুমান, ধৃত বা আটক ব্যক্তিরা মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ পান বলেই লালবাজারের বাইরে এত দ্রুত লোক জড়ো করা সম্ভব হচ্ছে। তাই সেই ‘যোগসূত্র’ কেটে ফেলতে চাইছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, সেন্ট্রাল লক-আপে নজরদারিতে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। ইতিমধ্যে ৫৯টি ক্যামেরা বসানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। দরপত্র ডাকা হয়েছে। এক আধিকারিক জানান, ৫৪টি ডোম ক্যামেরা ও ৫টি বুলেট ক্যামেরা বসানো হবে। সবক’টি ক্যামেরাতেই অডিয়ো রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে। ধৃতদের কথোপকথনের উপরেও নজর রাখতে চায় লালবাজার। সেন্ট্রাল লক-আপের এই নজরদারি ব্যবস্থা সাজিয়ে তুলতে খরচ হবে ৩৫ লক্ষ টাকার বেশি। পুজোর আগেই কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্তারা।