


সৌমিত্র দাস, কাঁথি: কাঁথির জুনপুট সমুদ্রসৈকতে ডিআরডিও (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) প্রতিরক্ষা গবেষণা কেন্দ্র ও মিসাইল ঘাঁটি তৈরির জন্য জমির সীমানা নির্ধারণ হল। মঙ্গলবার স্থানীয় প্রশাসন এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফে প্রকল্প এলাকার জন্য তাদের প্রাপ্য ৮.৭৩একর জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এজন্য নির্দিষ্ট জায়গায় বেশকিছু লোহার খুঁটি পোঁতা হয়। গোটা প্রক্রিয়াটির ভিডিয়ো রেকর্ডিং করা হয়। ছিলেন ডিআরডিও থেকে দুই প্রতিনিধি, কাঁথি-১ বিডিও প্রণয় মুখোপাধ্যায়, বিএলএলআরও অখিল বিশ্বাস, রেভিনিউ ইন্সপেক্টর সুমন সেনাপতি প্রমুখ। সংশ্লিষ্ট জুনপুট কোস্টাল ও অন্যান্য থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী উপস্থিত ছিল।
এদিন ডিআরডিওর প্রকল্প এলাকার সীমানা নির্ধারণের সময় এলাকাবাসীর অনেকেই জড়ো হয়েছিলেন। এর আগে গতবছর স্থানীয় মৎস্যজীবী ও তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের বাধায় সীমানা নির্ধারণের কাজ পিছিয়ে গিয়েছিল। এবারও বাধা দেওয়া হতে পারে, সেকথা মাথায় রেখে যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিডিও বলেন, এদিন জায়গা মাপার পর ডিআরডিওর হাতে তুলে দেওয়া হল। তারা প্রতিরক্ষা গবেষণা ও মিসাইল ঘাঁটি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করবে।
জুনপুটের সমুদ্রে মাছ ধরে এবং শুকনো করে বহু মৎস্যজীবী জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। জুনপুটে যে অংশ প্রকল্প এলাকার জন্য ডিআরডিও নিয়েছে, তার মধ্যে মৎস্যখটি এবং মাছ শুকনো করার জায়গা পড়ে যাচ্ছে। তাই এখানে মিসাইল ঘাঁটি তৈরি হলে তাঁদের জীবন-জীবিকার উপর আঘাত হানবে বলে মৎস্যজীবীরা মনে করছেন। এদিন সীমানা নির্ধারণের সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি পরিচালিত সংশ্লিষ্ট মাজিলাপুর পঞ্চায়েতের প্রধান প্রদীপ কুণ্ডু। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে এখানে অবশ্যই মিসাইল ঘাঁটি গড়া হোক। কিন্তু আমাদের দাবি, মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষার দিকটাও খতিয়ে দেখতে হবে। তাঁদের যাতে রুটি-রুজিতে টান না পড়ে, উচ্ছেদ হতে না হয়, সেটা বিবেচনা করা হোক। প্রয়োজনে সমুদ্রের দিকে জায়গা রয়েছে, তা নেওয়া হোক।
এসইউসি নিয়ন্ত্রিত ‘জুনপুট মিসাইল বিরোধী গণপ্রতিরোধ মঞ্চের’ আহ্বায়ক অমিত মান্না, বিশ্বজিৎ রায় বলেন, এখানে মিসাইল ঘাঁটি তৈরি করা হলে বহু মৎস্যজীবী ও গ্রামবাসীকে উচ্ছেদ হতে হবে। দেশের প্রতিরক্ষার স্বার্থে যদি করতেই হয়, তাহলে কোনো জনমানবশূণ্য স্থানে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হোক। আমরা এই দাবি নিয়ে ইতিপূর্বে প্রশাসনের সর্বস্তরে আবেদন জানিয়েছি। প্রকল্প বাতিল না করা হলে জোরদার আন্দোলন শুরু হবে।