


অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নাকাশিপাড়া বিধানসভায় পদ্মফুল ফুটেছে। পাঁচবারের বিধায়ক কল্লোল খাঁ পরাজিত হয়েছেন বিজেপির প্রার্থী শান্তনু দে’র কাছে। বিধানসভায় পালাবদলের পর এবার পঞ্চায়েতেও ক্ষমতার সমীকরণ বদল নাকাশিপাড়ায়। মাত্র পাঁচ মাসেই তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত। তার মধ্যে পাঁচটি গিয়েছে বিজেপির দখলে, দু’টি সিপিএমের এবং একটি কংগ্রেসের হাতে। ফলে ১৫টি পঞ্চায়েতের ব্লকে তৃণমূলের দখলে পড়ে রয়েছে মাত্র দু’টি। বিজেপির হাতে ১০টি। শুধু গ্রাম পঞ্চায়েত নয়, নাকাশিপাড়া পঞ্চায়েত সমিতিও বর্তমানে বিজেপির দখলে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পালাবদলের পর পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সদস্যদের পারস্পরিক সমর্থন এবং ক্ষমতার নতুন সমীকরণ। কোথাও বিরোধী শিবিরের সমর্থন, কোথাও অনাস্থা—সব মিলিয়ে অল্প কয়েকজন সদস্য নিয়েও বোর্ড গঠনে সফল বিজেপি। তবে, এই ক্ষমতা দখলকে ঘিরে অগণতান্ত্রিক রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির।
যদিও বিজেপির নাকাশিপাড়া ব্লক কনভেনার দেবব্রত চক্রবর্তীর দাবি,‘জনগণের ভোটে আগেই আমরা বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত জিতেছিলাম। পালা বদলের পর বিভিন্ন পঞ্চায়েতের বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছিল। সেখানে বিরোধীরা কোনো নাম প্রস্তাব করেনি। তাই বিজেপি সদস্যরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে প্রধান ও উপপ্রধান পদে বসেছেন।’ পাল্টা রাজ্য মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী আলিফা আহমেদ বলেন, ‘মানুষের ভোট লুট করে বিজেপি কীভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তা বাংলার মানুষ দেখেছেন। এবার পঞ্চায়েতগুলিও বিজেপি অগণতান্ত্রিকভাবে দখল করছে। জনগণের রায়ের উপর বিজেপি আস্থা হারিয়েছে। তাই এইভাবে জোর করে দখলের রাজনীতি করতে হচ্ছে।’
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে নাকাশিপাড়া ব্লকের ১৫টি পঞ্চায়েতের মধ্যে পাঁচটি ছিল বিজেপির দখলে। বেথুয়াডহরি-১, বেথুয়াডহরি-২, নাকাশিপাড়া, বিল্বগ্রাম ও পাটিকাবাড়ি পঞ্চায়েতে জিতেছিল তারা। বাকি ১০টি ছিল তৃণমূলের হাতে। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের প্রভাব পড়তে শুরু করে পঞ্চায়েতের রাজনীতিতেও। মুড়াগাছা, ধর্মদা, বিরপুর-২, ধনঞ্জয়পুর ও বিলকুমারি—নতুন করে এই পাঁচটি পঞ্চায়েতের দখল নিয়েছে বিজেপি। মাঝেরগ্রাম ও বিক্রমপুর গিয়েছে সিপিএমের হাতে। হরনগর পঞ্চায়েতের দখল নিয়েছে কংগ্রেস। ফলে দোগাছি ও বিরপুর-১ ছাড়া আর কোনও পঞ্চায়েত তৃণমূলের হাতে নেই। ওই দু’টি পঞ্চায়েতকেও কব্জা করা নিয়ে বিজেপির অন্দরে আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর।
বোর্ড গঠনের অঙ্কে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে মুড়াগাছা। সেখানে বিজেপির সদস্য মাত্র ছ’জন। অথচ প্রধান ও উপপ্রধান—দু’টি পদই গিয়েছে তাদের দখলে। তৃণমূল, সিপিএম, নির্দলে দলের পঞ্চায়েতের ২৮ সমর্থনেই প্রধান ও উপপ্রধান পদে বসেছেন বিজেপির প্রার্থীরা। ধর্মদা পঞ্চায়েতেও পাঁচজন সিপিএম সদস্যের সমর্থনে বোর্ড গঠন করেছে বিজেপি। বিরপুর-২ পঞ্চায়েতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কে এগিয়ে থেকেও বোর্ডের দখল রাখতে পারেনি তৃণমূল। দলের ১০ জন সদস্য এবং কংগ্রেসের এক সদস্যের সমর্থনে প্রধান ও উপপ্রধান পদে বসেছেন বিজেপির সদস্যরা।
এমনকী সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ধনঞ্জয়পুর ও বিলকুমারি পঞ্চায়েতেও বিজেপির সদস্য সংখ্যা হাতেগোনা। তবুও তৃণমূল, আইএসএফ, সিপিএম ও আরএসপির সদস্যদের সমর্থনে মাত্র চারজন করে সদস্য নিয়ে দু’টি পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান পদ দখল করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, মাত্র দু’জন সদস্য নিয়েই হরনগর পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান পদ দখল করেছে কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের দাবি, নাকাশিপাড়া ব্লকজুড়েই, একদা বিরোধীদের ক্ষমতায় বসানোর পর তৈরি করে দিচ্ছেন তৃণমূলের সদস্যরা।