


করাচি, ১৪ সেপ্টেম্বর: অপারেশন সিন্দুরের সময়ে ভারতীয় বায়ুসেনা, পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। নিকেশ করেছিল শতাধিক জঙ্গিকে। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে নৃশংস জঙ্গি হামলার যোগ্য জবাব ছিল অপারেশন সিন্দুর। গত ৭ মে ভারতীয় সেনার সেই প্রত্যাঘাতের জেরে এখনও ঘা শুকিয়ে যায়নি জঙ্গিদের। তার মাঝেই ধীরে ধীরে ফের গুঁড়িয়ে দেওয়া জঙ্গি ঘাঁটিগুলি মেরামত করছে জঙ্গিরা। আর পুরোটাই হচ্ছে পাক সরকারের মদতে। এমনই তথ্য উঠে এসেছে। জঙ্গিদের মদত দেওয়ার কথা উঠলেই বারবার অস্বীকার করে পাকিস্তান। অথচ গোপনে তাদের আর্থিক ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়েই চলেছে ইসলামাবাদ। তার একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলেছে। অপারেশন সিন্দুরে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুরিদকেতে লস্কর-ই-তোইবার গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রধান কার্যালয়ের মেরামতি শুরু হয়েছে। আর তার পুরোটাই হচ্ছে পাক সরকারের মদতে। অপারেশন সিন্দুরের সময়ে এই জঙ্গি ঘাঁটি প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। বিস্ফোরক, অস্ত্র রাখার ঘর, শীর্ষ কমান্ডারদের ট্রেনিং কেন্দ্র ও তাদের থাকার জায়গা পুরো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু কার্যালয়টির কাঠামো দাঁড়িয়েছিল। সেটিই আবার মেরামতি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে তেমনটাই সামনে এসেছে। ১৮ আগস্টের মধ্যে কার্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি পুরো ভেঙে ফেলা হয়। যে ঘরগুলি অবশিষ্ট ছিল গত ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেইগুলিও গুঁড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হয়। সূত্রের খবর, এবার নতুনভাবে ফের লস্করের ওই মূল কার্যালয়ের নির্মাণ শুরু হবে। যার উদ্বোধনের কথা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে। গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন, ফের যদি এই কার্যালয় নির্মাণ হয়ে যায় তাহলে ভারতের জন্য বিপদ বাড়তে পারে। লস্করের জঙ্গিরা ট্রেনিং, ভারতে হামলার পরিকল্পনা ও অস্ত্র ভাণ্ডার হিসেবে মুরিদকের কার্যালয়টি ব্যবহার করে। সূত্রের খবর, এই নির্মাণ কাজের তদারকি করছেন লস্করের প্রধান প্রশিক্ষক মৌলানা আবু জার। বর্তমানে লস্করের জঙ্গিদের ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে কাসুরের পাটোকিতে। সূত্রের খবর, পাকিস্তান সরকার লস্কর ও জয়েশ-ই-মহম্মদকে আর্থিক সাহায্য করছে। একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, পাক সরকার গত আগস্ট মাসে ৪ কোটি টাকা দিয়েছে লস্করকে। যাতে তারা মুরিদকের প্রধান জঙ্গি ঘাঁটিতি তৈরি করতে পারে। শুধুই তাই নয়, পাকিস্তানে বন্যার জন্য ত্রাণ চেয়ে একাধিক ওয়েবসাইট ছদ্ম নামে খুলেছে লস্কর-ই-তোইবা। তার মাধ্যমে টাকা তুলছে এই কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন।