


মুম্বই, ২ মে: দেশের ইতিহাস নিয়ে স্কুলগুলিতে যেভাবে পড়াশোনা করানো হয় তাতে ক্ষুব্ধ অভিনেতা আর মাধবন। ভারতের অতীত, দক্ষিণের রাজাদের অবদান নিয়ে বেশি কিছু লেখাই হয়নি স্কুলের ইতিহাসের পাঠ্যবইগুলিতে। তাতেই উদ্বিগ্ন তিনি। এই বিষয়ে নিজের বক্তব্য রেখেছেন মাধবন। তিনি জানিয়েছেন, ‘হয়তো এই কথাগুলি বলার জন্য আমাকে বিপদে পড়তে হতে পারে। তবুও আমি বলবই। যখন আমি স্কুলে ইতিহাস পড়তাম, তখন মুঘলদের উপর আটটি অধ্যায় ছিল, দুটি ছিল মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা সভ্যতা নিয়ে, ব্রিটিশ শাসন ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর চারটি এবং একটি অধ্যায় ছিল দক্ষিণের রাজাদের নিয়ে। চোল সাম্রাজ্য ২,৪০০ বছরের পুরনো, মুঘল ও ব্রিটিশদের থেকেও অনেক আগের ঘটনা। চোল রাজাদের নৌবহর ছিল দেখার মতো। জলপথে তাঁদের শক্তির প্রশংসা করত সকলেই। রোম পর্যন্ত মশলা শিল্প নিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু সেগুলি আমাদের ইতিহাসের বইয়ের পাতায় নেই। জৈন, বৌদ্ধ ও হিন্দুধর্ম চীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কোরিয়ার মানুষ অর্ধেক তামিল ভাষায় কথা বলে কারণ আমাদের ভাষা এতদূর পৌঁছেছে। আর আমরা এইসব তথ্য মাত্র একটি অধ্যায়ের মধ্যেই সীমাবন্ধ রেখেছি।’
একই সঙ্গে মাধবনের প্রশ্ন, ‘তামিল ভাষাকে নিয়ে কেন বেশি চর্চা হয়না। এই ভাষা গোটা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। কিন্তু কেউ তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানেনা। কারা এইসব সিলেবাস বানায়? কেন জানতে দেওয়া হয়না? এর পিছনে কী যুক্তি রয়েছে?’।
ঠিক যে সময়ে এনসিইআরটি সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে থেকে বাদ দিয়েছে মুঘলের ইতিহাস, দিল্লির সুলতানি শাসন ব্যবস্থার যাবতীয় ‘রেফারেন্স’। তখনই এমন মন্তব্য করেছেন মাধবন। যা ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিছুদিন আগেই এনসিইআরটি জানায় মুঘলের ইতিহাস, দিল্লির সুলতানি শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবই সেখানে ঠাঁই পাচ্ছে ‘কুম্ভমেলা,’ ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, এমনকী ‘অটল টানেলের’ প্রসঙ্গ। যাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সেই বিতর্কের মুখে ব্যাখ্যা দিয়েছে এনসিইআরটি’ও। তাদের দাবি, ‘এটি সংশোধিত সিলেবাসের প্রথম অংশ মাত্র। দ্বিতীয় অংশ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশিত হবে।’