


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিধান পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বিহারের এনডিএ জোটে প্রবল সংঘাতের ইঙ্গিত প্রকাশ্যে আসার পর ড্যামেজ কন্ট্রোলের মরিয়া চেষ্টা করছে বিজেপি। বিধান পরিষদের মোট আটটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিজেপির জোটসঙ্গী সংযুক্ত জনতা দল লড়াই করেছে। তিনটিতেই পরাজিত হয়েছে। আর সেই হারের কারণ নাকি বিজেপির অন্তর্ঘাত। বৃহস্পতিবারই নীতীশ কুমারের দলের অন্দরে হয়েছে এহেন সমীক্ষা। সেখানে গোটা দলই কমবেশি বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে। এবার দুই পক্ষে নতুন দাবি নিয়ে নিয়ে স্নায়ুর লড়াই শুরু হয়েছে। বিগত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বিহারের রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে যে, বিহারে মন্ত্রিসভার রদবদল হতে চলেছে। আর সেই রদবদলের অন্যতম প্রধান নাম নাকি নিশান্ত কুমার। অর্থাৎ নীতীশ কুমারের পুত্র। তিনি এখন বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই নিশান্তকুমারকে উপ মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি সংযুক্ত জনতা দলের অনেকদিনেরই। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী তথা দিল্লির সর্বোচ্চ বিজেপি নেতৃত্ব এখনও সেই দাবিতে আমল দেননি। এবার সেই দাবি আরও জোরদার হয়েছে।
বিধান পরিষদ নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে সংযুক্ত জনতা দলের অন্তর্ঘাতের অভিযোগ ঘিরে দুই জোটসঙ্গীর মধ্যে প্রবল সন্দেহের বাতাবরণ। এমতাবস্থায় নীতীশ কুমারের দলকে উপেক্ষা অথবা অগ্রাহ্য করতেও পারছে না বিজেপি। কারণ বিহারে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর পদ নীতীশ কুমারের থেকে ছিনিয়ে নিলেও এখনও সরকার টিকিয়ে রাখতে তাঁর দল ছাড়া গতি নেই। বিজেপি ২০২৫ সালের ভোটে এককভাবে ৮০ আসনও পায়নি। একক গরিষ্ঠতার সংখ্যা ১২২। কিন্তু নীতীশ কুমার অথবা নিশান্তকুমার যদি কোনো কারণে জোট নিয়ে বেঁকে বসেন, তাহলে বিজেপির সর্বনাশ হতে দেরি হবে না। কারণ নীতীশের দল এবং লালুপ্রসাদ যাদবের দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার যোগফল গরিষ্ঠতায় পৌঁছে যাবে। কেন্দ্রে সরকার বাঁচাতেও নীতীশের সমর্থনের উপরই নির্ভর করে আছে বিজেপি। তাই সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন দাবি ও জল্পনা। নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠ বিধায়ক বিনয় কুমার চৌধুরী শুক্রবার বলেছেন, নিশান্ত কুমার সামান্য সময়ের মধ্যেই বিহারবাসীর মন জয় করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি অনেক কাজ করে চলেছেন। তাই তাঁকে সরকারপক্ষ উপমুখ্যমন্ত্রী করবে কি না, সেটা সরকারের বিষয়। আজ নাহলে কাল করতেই হবে।