


নয়াদিল্লি: এসআইআরের খসড়া তালিকায় জায়গা হয়নি অনেকেরই। তাঁদের নাম অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও ডুপ্লিকেট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এপর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্তত ১৭টি রাজ্যে এসআইআর শেষ। কিন্তু ওই পর্ব চলাকালীন কোথাও বাতিল ভোটারদের জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু এবার জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভের চাপে রাজধানী দিল্লি সহ সাতটি রাজ্যের জন্য বেনজির উদ্যোগ নিল নির্বাচন কমিশন। ওই রাজ্যগুলিতে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও ডুপ্লিকেট হিসাবে চিহ্নিত ভোটারদের ফের নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দেওয়া হল। সেটাও আবার ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করে। সঙ্গে অবশ্য দিতে হবে একটি বিবৃতি—কেন আগের ইনিউমারেশন ফর্ম পূর্ণ করেননি, তার ব্যাখ্যা হিসাবে। যথাযথ যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের পুরনো এপিক নম্বরও ফিরিয়ে দেওয়া হবে। শুক্রবার দিল্লি, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলঙ্গানা এবং নাগাল্যান্ডের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকদের চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কমিশন। সেইমতো ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে। এই উদ্যোগ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম, সমাজমাধ্যম, বিভিন্ন ঘোষণা এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে এই তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। বাতিল ভোটারদের ফের তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নাম এবং তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করে তা টাঙানো হবে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে। কমিশনের ওয়েবসাইটেও তালিকাগুলি আপলোড করা হবে। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কংগ্রেস। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘আরও একটা দিন, আরও একটা সিদ্ধান্ত বদল। ভোট-চুরি ধরা পড়তেই তা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কমিশন এবং মোদি-শাহ সবরকম পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্ত বদলই দু’টি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। এক, জ্ঞানেশ কুমারকে সরতেই হবে, আর দুই, এসআইআর বাতিল হওয়া উচিত।’
এসআইআর পর্বে নানা ইস্যুতে আপত্তি তুলেছিলেন দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার। বিশেষ করে ‘ফর্ম ৬’ বদল করা নিয়ে তাঁদের আপত্তি জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের। সেই খবর হতেই আন্দোলন শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। দাবি উঠেছে—জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চাই! ককরোচ-বিরোধীদের লাগাতার চাপ তো ছিলই, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে ‘ফর্ম ৬’ নিয়েও ঢোঁক গিলেছে নির্বাচন কমিশন। তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রলে এসআইআরে বাতিল ভোটারদের পুনরায় নাম তোলার জন্য ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করার নিদান দেওয়া হয়েছে। তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। গত ২৮ অক্টোবর দিল্লির এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও একাধিকবার নাম নথিভুক্ত (এএসডিডি) হিসাবে চিহ্নিতদের নতুন ভোটার হিসাবে গণ্য করে ফর্ম-৬ জমা দিতে বলা ভুল। যাঁরা স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত অথবা অনুপস্থিত কিংবা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেন না, তাঁদের গণনা ফর্ম বা ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ফর্ম-৮ জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এরপরই এদিন ওই সাতটি রাজ্যে খসড়া থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন করে ইনিউমারেশন ফর্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলল কমিশন। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, যাঁরা একই রাজ্যের মধ্যে বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের ফর্ম-৮ জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নতুন ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে একটি বিবৃতি দিতে হবে। ঠিকানার প্রমাণপত্রও দিতে হবে।