


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে ৫ দিন পর আজ ধরনা প্রত্যাহার করে নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালের পর আজ, মঙ্গলবারও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ধরনা তুলে নেওয়ার জন্য মমতাকে অনুরোধ করেন অভিষেক। সেই অনুরোধে সম্মতি দিয়ে সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ধর্না তুলে নেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এদিন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অভিষেক বলেন, দিদি, আজ আপনার লড়াইয়ের জয় হয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালত আপনার দাবিকে মান্যতা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। পাশাপাশি আদালতের এই নির্দেশকে মানুষের জয় বলেও দাবি করেন অভিষেক। জানান, মামলাটি এখন স্পেশাল কেস। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেলেও বিষয়টিতে আদালতের নজরদারি থাকবে। এই নির্দেশের ফলে কমিশন যে দরজা বন্ধ করতে চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট তা খুলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এদিন সুপ্রিম কোর্ট ভোটার তালিকা সংশোধনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পরই ধরনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। আজ ধরনা প্রত্যাহারের আগে মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখেন তিনি। কমিশনকে কড়া ভাষায় নিশানা করেন মমতা। বলেন, বিজেপি গণতন্ত্র মানে না। ওরা শুধু মিথ্যে কথা বলছে। গেরুয়া শিবিরকে সন্তুষ্ট করতে নির্বাচন কমিশন বিচারকদের ভুল বুঝিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, যাঁদের নাম বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে এবার তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। আমি পিটিশন দাখিল করেছিলাম আজ তার মর্যাদা রক্ষা হয়েছে। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পরে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন। তবে এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। ভোটের আগের দিন পর্যন্ত কোনও ভোটার যদি বৈধ বলে প্রমাণিত হন তাহলে তিনি অবশ্যই ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া রান্নার গ্যাস বৃদ্ধি নিয়েও কড়া ভাষায় কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন মমতা। শেষে ধরনা শেষের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, গত ৫ দিন ধরে আমি রাস্তায় রয়েছি। দরকার হলে ৫০ দিনও থাকতে পারি। কিন্তু অভিষেকের প্রস্তাব অনুযায়ী আমরা কী আপাতত ধরনা প্রত্যাহার করে নিতে পারি? ধরনা মঞ্চে এবং মঞ্চের নীচে উপস্থিত থাকা সকলেই হ্যাঁ বলে সম্মতি জানান। এরপর মঞ্চ থেকে নামার আগে টানা পাঁচ দিন রাজপথে থাকার জন্য সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের যে অসুবিধা হয়েছে তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন মমতা। জানান, ২৫ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি।