


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আকাশ মেঘলা, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি। তবুও হাড়োয়ার সার্কাস মাঠ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভরতে শুরু করেছিল। ঘড়ির কাঁটা যখন ১২টা ২০ ছুঁল, মৌমাছির গুঞ্জনের মতো আওয়াজ, আকাশে হেলিকপ্টারের চক্কর। সার্কাস মাঠে তখন মাথা গোনা যাচ্ছে না, এত ভিড়। মাঠের মাটি ভিজে। কাদা ছিটকে মানুষের জামাকাপড়ে লাগছে। মাঠ থিকথিক করছে। সবাই অধীর অপেক্ষায়, কখন আসছেন প্রিয় দিদি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কপ্টার নামার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় উন্মাদনায় ফেটে পড়ল। মমতা মঞ্চে উঠলেন। হাত নাড়তেই গর্জন উঠল মাঠ থেকে-‘বাংলা মমতারই।’ ঘড়িতে ১২টা ৩২ মিনিট। মাইক হাতে নিলেন মমতা। বক্তৃতা শুরু হল উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে। গ্রামাঞ্চলে রাস্তা তৈরি, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি, শিক্ষার বিস্তার, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ইত্যাদি জনতার দরবারে তুলে ধরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং যুব সাথীর প্রসঙ্গ উঠতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন মহিলারা। ভিজে শাড়ি সামলে নিলেন, হাতে কাদা থাকলেও হাততালি থামল না। এই আবেগ স্থিমিত হতে না হতেই বক্তব্যের ঝাঁজ বাড়ালেন মমতা। এসআইআর ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা করে একের পর এক অভিযোগ তুললেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নাম কাটার রাজনীতি চলছে বলে তাঁর প্রশ্ন, ‘মানুষকে ভোট দিতে না দিলে গণতন্ত্র কোথায় থাকবে?’ প্রশ্নের জবাব যেন তৈরিই ছিল। একের পর নাম কাটা যাওয়া যাওয়ায় রাজ্য ক্ষোভে ফুঁসছে। সার্কাস মাঠ ফেটে পড়ল জনতার গর্জনে। স্লোগানের ঢেউ তীব্র হল। এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়ন আটকে রাখার অভিযোগ তুললেন মমতা। বকেয়া টাকা আটকে রাখা, কেন্দ্রীয় এজেন্সির অনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে লাগাতার আক্রমণ শানালেন। বললেন, ‘বাংলাকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলা মাথা নোয়াবে না।’ এই কথায় আরও উজ্জীবিত হল ভিড়। মমতার গলায় তখন সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ। বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। বলেন, ‘বাংলা একসঙ্গে থাকার কথা বলে, বিভেদ তৈরি নয়।’ এই মন্তব্যে ভিড়ের মধ্যে থেকে সমর্থনের আওয়াজ আরও জোরাল হল। ভাষণের শেষ অংশে সরকারি প্রকল্পগুলির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, ‘যা পাচ্ছেন তা চালিয়ে যেতে হলে আপনাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ এই দু’লাইনে ভোটের মূল সুর বাঁধা হয়ে যায়।
১টা ৫মিনিটে বক্তব্য শেষ করেন জননেত্রী। সভার মানুষ তখন বিজেপি বিরোধিতায় জবাব দিতে ফুটছেন। মমতা মঞ্চ ছাড়লেন। কিন্তু ভিজে মাঠে দাঁড়িয়ে মানুষ স্লোগান তুলেই চললেন। কাদা মাখা হাত, ভিজে জামাকাপড় আর মুখে বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জন। হাড়োয়ার এই জনসভায় দেখা গেল এসআইআরে নাম কাটা যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের একমাত্র আশা ভরসার আশ্রয়স্থল।