


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পকেটে পাশবই নিয়ে গ্রাহক সেজে মাঝেমধ্যেই ব্যাঙ্কে ঢুকত সে। তারপর একে ওকে জিজ্ঞাসা করত চেক জমা দেওয়ার ড্রপ বক্স কোথায়। সেটি খুঁজে না পেয়ে শেষমেশ কোথায় চেক জমা হয়, তা জানতে গিয়ে দেখে, একটি টেবিলে ট্রে’র উপর জমা পড়া চেক ডাঁই হয়ে রয়েছে। সেগুলি ক্লিয়ারেন্সে যাবে। এখান থেকেই চেক হাতানোর ফন্দি আঁটে অভিযুক্ত। শেষমেশ ১৪ লক্ষ টাকার চেক হাতানোর পর সেই ডিপোজিট স্লিপে পেন দিয়ে কেটে নিজের নাম ও অ্যাকাউন্ট নম্বর লিখে আবার ট্রে’তে রেখে দেয়। সেই চেক ‘বিনা যাচাইয়ে’ পাশও হয়ে যায়। এভাবে টাকা চুরি যাওয়ায় জোড়াবাগান এলাকার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অভিযোগ জানায় থানায়। তার ভিত্তিতে শনিবার অভিযুক্ত জুবেরকে একটি পানশালা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। একইসঙ্গে কর্তব্যে গাফিলতির জন্য ওই ব্যাঙ্কের ক্যাশিয়ার ও এক অফিসারকে ১৪ লক্ষ টাকা জরিমানা করছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ মার্চ জোড়াবাগান থানায় অভিযোগটি জমা পড়ে। বদল হওয়া অ্যাকাউন্টে ১৪ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতে পুলিস প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা রুজু করে। তদন্তে নেমে পুলিস সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পারে, এক যুবক ট্রে থেকে চেক তুলছে। ব্যাঙ্কের সামনের রাস্তার সিসি ক্যামেরার ছবিতে দেখা যায়, ওই যুবক তিন-চারদিন ধরে ওই ব্যাঙ্কে কখনও বাইকে, কখনও ট্যাক্সিতে চড়ে এসেছে। গাড়িগুলির নম্বর নিয়ে চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, সে রাজাবাজার থেকে উঠেছে। পুলিস তার ছবি নিয়ে রাজাবাজার এলাকায় খোঁজ শুরু করে। একজন জানায়, তার নাম জুবের। জোগাড় হয় তার মোবাইল নম্বর। টাওয়ার লোকেশন ধরে জানা যায়, শনিবার সে ধর্মতলায় রয়েছে। সেখানে একটি পানশালা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত জানায়, ওই অ্যাকাউন্টটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এমন বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট সে ভাড়া নিয়েছিল। জোড়াবাগানের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের ভূমিকাও নজরে রয়েছে তদন্তকারীদের। ডিপোজিট স্লিপে পেন দিয়ে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও নাম কাটা হলেও কেন তা নজরে আসেনি ক্যাশিয়ার বা অন্য কোনও কর্মীর? চেকের পিছনে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ফোন নম্বর কেন ছিল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পুলিস। গোটা ঘটনায় কর্মীদের যে গাফিলতি ছিল, তা ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও উঠে এসেছে। এরপর ক্যাশিয়ার ও এক অফিসারকে ১৪ লক্ষ টাকা জরিমানা করে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।