


সংবাদদাতা, কাটোয়া: সরকারে আসতেই বিজেপির অন্তর্কলহ শুরু হয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন দলেরই নেতাদের বিরুদ্ধে। আবার কেউ প্রকাশ্য সভায় দলের নেতার নাম করে খোঁচা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার, মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব বর্ধমান সফরের দিনেই মঙ্গলকোটে বিজেপি ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। বুথ সভাপতি, শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ, মণ্ডলের সহ সভাপতি সহ তিরিশ জন পদাধিকারী পদত্যাগ পত্র নিয়ে বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতির অফিসে রওনা দেন।
তাঁরা প্রত্যেকেই মঙ্গলকোটের ৩ নম্বর মণ্ডলের সভানেত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, সভানেত্রী তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছেন। দলের পুরানো কর্মীদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এমনকী ওই নেত্রী বুথ সভাপতিদের একাংশকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তাই তাঁরা পদত্যাগ করছেন।
এ নিয়ে বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, আমি তো জেলাতে নেই। বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সভাতে এসেছি। ফিরে গিয়ে বিষয়টি দেখব। মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামে রীতিমতো শিবির করে এদিন পদত্যাগ পত্র লেখেন নেতারা। তারপর তাঁরা প্রায় মিছিল করে বোলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ৩ নম্বর মণ্ডলের সহ সভাপতি রণজিৎ দাস, দীনবন্ধু ঘোষ, শিমুলিয়া-২ অঞ্চলের শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ শিবে দাস সহ বেশ কয়েকজন বুথ সভাপতির স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি জমা পড়েছে দলের সাংগঠনিক বোলপুর জেলা কমিটির কাছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘৩ নম্বর মণ্ডলের সভানেত্রী মন্দিরা চট্টরাজ এবং সাধারণ সম্পাদক নয়ন ঘোষের ঔদ্ধত্য এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদত্যাগ।’ বিক্ষুব্ধ কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, মন্দিরা চট্টরাজ এবং নয়ন ঘোষ অন্যান্য কার্যকর্তা এবং সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেন। দলের কর্মসূচিতে তাঁরা অন্যান্য কার্যকর্তাদের ডাকেন না। এ নিয়ে বলতে গেলে দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যদিও মন্দিরা চট্টরাজ বলেন, পদত্যাগের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমি সংগঠনের বাইরে নই। যে যা খুশি অভিযোগ করতেই পারে।
মঙ্গলকোটের ৩ নম্বর মণ্ডলে বেশ কয়েক মাস ধরে বিজেপির নিজেদের মধ্যে সংঘাত চলছিল। এতদিন সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে নাম না করে কাদা ছোঁড়াছুড়ি এবার প্রকাশ্যে এসে পড়ল। কয়েকদিন আগে মাজিগ্রামের বিজেপি নেতা সৌমেন মুখোপাধ্যায়ের নামে দলেরই এক বুথ সভাপতির ছেলে টাকা নেওয়ার লিখিত অভিযোগ করেন থানায়। অভিযোগ, সৌমেন চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছিল। তা নিয়ে ক্ষোভ চরমে ওঠে। যদিও সৌমেন সেই ব্যক্তিকে তাঁর পাওনা দু’ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে দেন। সে সময় মন্দিরা চট্টোরাজ বলেছিলেন, সৌমেনকে আমরা সাসপেন্ড করেছি। এখান থেকেই সংঘাত শুরু। সৌমেনের দাবি, সাসপেন্ডের লিখিত চিঠি তিনি আজ অবধি পাননি। মণ্ডল সভানেত্রী মৌখিক ভাবেই সব কিছু করছেন।
এর আগেও একদিন মাজিগ্রাম বিজেপি পার্টি অফিসে সৌমেনের সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর বিবাদ চরমে উঠেছিল। এবার দল থেকেই পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সৌমেনের দাবি, আগামী দিনে আরও নেতা পদত্যাগ করবেন। তবে এতে পদ্ম শিবিরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।